Thursday 26 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভূরিভোজের ধকল সামলাতে দারুণ কার্যকর পানীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩৭

ঈদের টানা কয়েকদিন পোলাও, বিরিয়ানি আর মাংসের নানা পদের পর পেটে একটা অস্বস্তি হওয়া খুব স্বাভাবিক। অতিরিক্ত মসলা ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের ফলে পরিপাকতন্ত্রের ওপর বড় ধরনের ধকল যায়। গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা কিংবা আলসেমি কাটিয়ে শরীরকে আবার ঝরঝরে ও সতেজ করতে দারুণ কাজে দেয় কিছু প্রাকৃতিক পানীয়।

সহজেই ঘরে তৈরি করা যায়, এমন জাদুকরী পানীয়ের তালিকা ও প্রস্তুতপ্রণালী নিচে দেয়া হলো…

সঠিক সময়ে সাধারণ পানি

অতিরিক্ত চর্বি ও মিষ্টির প্রভাব কাটাতে পানির চেয়ে ভালো কোনো ওষুধ নেই। এটি শরীরের টক্সিন ধুয়ে বের করতে সাহায্য করে। তবে খাওয়ার পরপরই ঢকঢক করে পানি না খেয়ে, অন্তত ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে পান করুন। এতে পাচক রস পাতলা হয়ে যায় না এবং খাবার সহজে হজম হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ ঘোল বা বোরহানি

পাকস্থলীর বন্ধু হলো টক দই। খাওয়ার পর বা সাথে ঘরে পাতা টক দইয়ের ঘোল কিংবা বোরহানি খেলে পেটের অস্বস্তি নিমিষেই দূর হয়। ব্লেন্ডারে টক দইয়ের সাথে সামান্য পুদিনা পাতা, জিরার গুঁড়া ও বিট লবণ মিশিয়ে নিলেই তৈরি স্বাস্থ্যকর বোরহানি। এটি অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার জোগান দেয়।

পুদিনা-লেবুর রিফ্রেশিং ড্রিংক

তাত্ক্ষণিক এনার্জি ও সতেজতা পেতে এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস ও সামান্য হিমালয়ান সল্ট বা লবণ গুলে নিন। লেবুর প্রাকৃতিক এসিড হজমপ্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এর সাথে কয়েকটা তাজা পুদিনা পাতা থেঁতো করে দিলে বুক ধড়ফড়ানি বা অস্থিরতা কমে যায়।

ম্যাজিক্যাল জিরা পানি

বাঙালি রান্নায় জিরার ব্যবহার যেমন স্বাদ বাড়ায়, জিরার পানি তেমনি পেটের মেদ ও গ্যাস কমায়। বাজার থেকে কেনা কৃত্রিম জিরা পানির বদলে আস্ত জিরা পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। এটি মেটাবলিজম বা হজমক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। পেট ভার হয়ে থাকার অনুভূতি নিমেষেই কেটে যায়।

শসা-দইয়ের স্মুদি ও ডিটক্স ওয়াটার

দুপুরের ভারী খাবারের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পর শসা, লেবু আর টক দই দিয়ে ব্লেন্ড করা স্মুদি খেতে পারেন। এটি যেমন পেট ঠান্ডা রাখে, তেমনি শরীরকে হাইড্রেট করে। এছাড়া সারাদিন কাচের বোতলে পানি ভরে তাতে শসা ও লেবুর টুকরো ভিজিয়ে রাখলে চমৎকার ‘ডিটক্স ওয়াটার’ তৈরি হয়, যা চুমুকে চুমুকে ক্লান্তি দূর করে।

বিশেষ সতর্কতা: যা এড়িয়ে চলবেন

চিনিকে ‘না’ বলুন: ডিটক্স বা হজমি পানীয়তে চিনি মেশালে এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়। চিনি শরীরে বাড়তি মেদ ও ক্লান্তি বাড়ায়।

সফট ড্রিংকস বর্জন: কোমল পানীয় বা কার্বোনেটেড ওয়াটার সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে পেটে গ্যাস তৈরি করে।

খাওয়ার মাঝে তরল নয়: খাবারের ঠিক মাঝখানে বেশি পানি খেলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে।

উৎসবের খুশি তখনই দীর্ঘস্থায়ী হয়, যখন শরীর সুস্থ থাকে। রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি একটু সচেতনতাই পারে ঈদ-পরবর্তী দিনগুলোকে প্রাণবন্ত ও কর্মচঞ্চল রাখতে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর