সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল হিসেবে খেজুরের তুলনা মেলা ভার। শুধু রমজান মাসেই নয়, সুস্থ থাকতে আজকাল অনেকে সারা বছরই খাদ্যতালিকায় রাখছেন খেজুর। তবে খেজুর দিয়ে তৈরি এক বিশেষ ঘরোয়া পানীয় ‘নাবীয’ বা ‘নাবিজ’ ইদানীং স্বাস্থ্যসচেতন মহলে বেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রায় চৌদ্দশত বছর ধরে চলে আসা এই ক্ষারধর্মী (Alkaline) তরলটি একাধারে সুন্নতি পানীয় এবং শরীরের জন্য দারুণ শক্তিবর্ধক।
মূলত সাধারণত পানিতে খেজুর ভিজিয়ে রেখে এই স্বাস্থ্যকর নির্যাস তৈরি করা হয়। এটি পরিপাকতন্ত্রকে শান্ত রাখে, পেটের অম্লতা বা অ্যাসিডিটি দূর করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি দূর করে। এছাড়া শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে লিভার ও হাড়ের সুরক্ষায় এর কার্যকারিতা অনন্য।
নাবীয পানের প্রধান স্বাস্থ্য উপকারিতা
পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষা ও হজম: এই পানীয় উচ্চ আঁশযুক্ত ও ক্ষারধর্মী হওয়ায় পাকস্থলীর এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে। গ্যাস্ট্রিকের জ্বালাপোড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে এটি মহৌষধ।
প্রাকৃতিক ডিটক্স ও কিডনির যত্ন: এটি রক্ত পরিশোধনে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। মূত্রবর্ধক গুণের কারণে এটি কিডনি সচল রাখতেও সহায়ক।
তাত্ক্ষণিক শক্তির জোগান: খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) এবং প্রয়োজনীয় খনিজ যেমন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রন মুহূর্তের মধ্যেই শরীরে সজীবতা ফিরিয়ে আনে।
হাড়ের জোড় ও গেঁটেবাতের উপশম: রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আরথ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা কমাতে এই পানীয় বেশ উপকারী।
অন্যান্য গুণাগুণ: এটি যকৃৎ (লিভার) ও প্লীহার প্রদাহ কমায়। কফ বা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করে বুক ও গলা হালকা রাখে এবং নিয়মিত পানে স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়।
সহজে ‘নাবীয’ বানানোর ঘরোয়া নিয়ম
নাবীয তৈরি করা ভীষণ সহজ। নিচে সঠিক প্রস্তুতপ্রণালী দেয়া হলো:
উপকরণ: প্রায় ১০০ গ্রাম ভালো মানের খেজুর ও ১ লিটার বিশুদ্ধ খাবার পানি।
ভেজানোর নিয়ম: রাতে শোবার আগে খেজুরগুলো ভালো করে ধুয়ে একটি কাঁচের পাত্রে পানিতে ভিজিয়ে দিন।
ঢেকে রাখুন: পাত্রটির মুখ একটি ঢাকনা দিয়ে ভালো করে আটকে রাখুন।
সময়কাল: সাধারণ তাপমাত্রায় ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এটি ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর খেজুরগুলো হাত দিয়ে ভালো করে কচলে পানিতে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর নাবীয।
জরুরি সতর্কতা: ভেজানোর পর ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই পানীয়টি পান করে শেষ করা উচিত। কারণ এর চেয়ে বেশি সময় রাখলে এটি গেঁজে উঠতে পারে (Fermentation শুরু হয়) এবং সুরা বা অ্যালকোহলে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।