Saturday 04 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এসির তাপমাত্রা কি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?

সারাবাংলা ডেস্ক
৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৬ | আপডেট: ৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৯

প্রচন্ড গরম থেকে রক্ষা পেতে আমরা অনেকেই এসির ওপর নির্ভরশীল। কেউ এসি ছেড়ে রাখেন ১৮ ডিগ্রিতে, কেউ আবার ২৪ বা ২৬ ডিগ্রিতে। কিন্তু আপনার শোয়ার ঘরের তাপমাত্রা আপনার হৃদযন্ত্র বা হার্টের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, ঘরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষণায় যা উঠে এসেছে

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪৭ জন ব্যক্তির ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষণার ফলাফল বলছে, শোয়ার ঘরের তাপমাত্রা যদি ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৭৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি হয়, তবে তা হৃদযন্ত্রের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করে। ঘুমের সময় হার্টের যে স্বাভাবিক ‘রিকভারি’ বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলার কথা, তা ব্যাহত হয় উচ্চ তাপমাত্রার কারণে।

বিজ্ঞাপন

কেন হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে?

গবেষণার প্রধান লেখক ফার্গাস ও’কনর জানান, ঘরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। রক্ত সঞ্চালন ত্বকের দিকে বেশি প্রবাহিত করতে গিয়ে হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি লোড পড়ে। যাদের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা আছে বা যারা বয়সে প্রবীণ, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তাপমাত্রা বাড়লে ঝুঁকির অঙ্ক

গবেষকরা দেখিয়েছেন, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর প্রতি এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে হার্টের ওপর চাপের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে…

* ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি: হার্টের ওপর চাপ বাড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ।

* ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি: এই চাপ বেড়ে দাঁড়ায় ১০০ শতাংশে।

* ২৮ ডিগ্রির বেশি: হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সুস্থ থাকতে এবং হার্টকে বিশ্রাম দিতে গবেষকরা শোয়ার ঘরের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে ঘুমের সময় শরীর অতিরিক্ত তাপের মোকাবিলা না করে স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রাতের তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই বাড়তি তাপমাত্রা অনিদ্রা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এসির তাপমাত্রা নির্বাচনে কেবল আরাম নয়, স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।