Wednesday 14 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পুজোর সাজে সেকালের গহনা, একালের ট্রেন্ড

ফারহানা নীলা
১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:০৪

শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই রঙের মেলা, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। দুর্গাপূজায় বাঙালির পোশাক থেকে শুরু করে সাজগোজের ধারায় প্রতি বছরই আসে নতুন বৈচিত্র্য। তবে এবারের পূজোর স্টাইল স্টেটমেন্টে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সেকালের ঐতিহ্যবাহী গহনার সঙ্গে একালের আধুনিক পোশাকের ফিউশন। ঠাকুরমার বাক্সে সযত্নে রাখা ভারী সোনার নোলক, কোমরের বিছা কিংবা মাথার রাজকীয় টায়রা কেবল আর ঐতিহ্যবাহী ভারী কাঞ্জিভরম বা লাল-সাদা শাড়ির ঘেরাটোপে আটকে নেই। হালফ্যাশনের তরুণীরা ঐতিহ্যকে ধারণ করছেন একেবারেই আধুনিক এবং ক্যাজুয়াল লুকে।

ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ও ফিউশন ফ্যাশন

বিজ্ঞাপন

বাঙালির পুজোর সাজে সোনালী কিংবা রূপালী গহনার স্থান চিরকালই অনন্য। একসময় ষষ্ঠী থেকে দশমী—সবদিনই ভারী লাল-সাদা বা বেনারসী শাড়ির সঙ্গে ভারী সোনার অলংকার পরাই ছিল নিয়ম। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের তরুণীরা ঐতিহ্যকে বিসর্জন না দিয়ে বরং তাকে আধুনিকতার ছাঁচে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছেন। প্রাচীন নকশার গহনাকে তারা মেলাচ্ছেন ক্যাজুয়াল শার্ট, জিন্স, এথনিক কুর্তি কিংবা ওয়েস্টার্ন ফ্রকের সঙ্গে। এই ফিউশন লুক শুধু যে চোখে পড়ার মতো তা নয়, বরং ভিড়ের মাঝেও এনে দেয় এক স্বতন্ত্র আভিজাত্য।

টানা নোলকে বোহো লুক

নাকছাবি বা নোলক বাঙালির চিরাচরিত সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ। একসময় চেইনটানা ভারী সোনার নোলক পরা হতো রাজকীয় আমেজ আনতে। তবে বর্তমান ফ্যাশনে সেই রাজকীয়তা পেয়েছে বোহো অ্যান্ড ট্রাইবাল টাচ। জাঁকজমকপূর্ণ শাড়ির বদলে তরুণীরা এখন অক্সিডাইজড সিলভার বা হালকা মেটালের টানা নোলক বেছে নিচ্ছেন আধুনিক কুর্তি, ডেনিম শার্ট কিংবা ইনডো-ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে। কার্লি হেয়ার স্টাইল, স্নিগ্ধ মেকআপ আর একপাশের টানা নোলকের এই মেলবন্ধন আধুনিক পোশাকেও চমৎকার এক এথনিক আমেজ তৈরি করে।

কোমরবিছা থেকে ট্রেন্ডি ওয়েস্ট বেল্ট

পূজোর সাজে কোমরের বিছা একসময় ছিল নারীত্বের পূর্ণতার প্রতীক। চওড়া সোনার কাজ করা বিছা শাড়ির আঁচল আটকে রাখতে কিংবা কোমরের ভাঁজকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হতো। আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনাররা এই বিছাকেই রূপান্তর করেছেন স্টেটমেন্ট বেল্টে। ইদানীং ওয়েস্টার্ন ফ্রক, দীর্ঘ ক্যানভাস গাউন কিংবা এ-লাইন ড্রেসের সঙ্গে মুক্তো, পাথর বা সিলভারের তৈরি মডার্ন কোমরবন্ধনী পরার চল তৈরি হয়েছে। শাড়ির জটিলতা এড়িয়ে যারা পুজোয় আরামদায়ক ওয়েস্টার্ন বা ফিউশন পোশাক পরতে পছন্দ করেন, তাদের পোশাকে এই আধুনিক বিছা এনে দেয় রাজকীয় মার্জিনাল লুক।

টায়রার আধুনিক রূপান্তর

মাথার সিঁথিতে টানা দেওয়া টায়রা কিংবা টিকলি মানেই ছিল বিয়ের কনে বা ভারী উৎসবের চিরাচরিত রূপ। কিন্তু আধুনিক ফ্যাশন ধারায় টায়রার নকশায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সিলভার চেইন, সূক্ষ্ম পাথরের কাজ কিংবা হালকা পার্লের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে মিনিমালিস্ট হেডচেইন বা মডার্ন টায়রা। পূজোর দিনে খোলা চুলের স্টাইলের সঙ্গে জিন্স-শার্ট কিংবা ওয়েস্টার্ন ব্লেজার কাসকেডের ওপর মাথার এই হালকা টায়রা অনায়াসেই পরা যায়। চিরাচরিত রীতির বাইরে গিয়ে পোশাকে ওয়েস্টার্ন টাচ আর মাথায় সেকালের রাজকীয় টায়রার উপস্থিতি ফ্যাশনে তৈরি করে এক অনন্য বৈপরীত্য ও আত্মবিশ্বাসী লুক।

ঐতিহ্যে উজ্জ্বল আধুনিকতা

ফ্যাশন প্রতিনিয়ত বদলায়, কিন্তু শিকড়ের টান কখনো মুছে যায় না। সেকালের জাঁকজমকপূর্ণ গহনাগুলোকে একালের তরুণী ও ফ্যাশনপ্রেমীরা যেভাবে দৈনন্দিন বা ফিউশন পোশাকে মানিয়ে নিচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। পূজোর দিনগুলোতে ভারী শাড়ির বাঁধন ছেড়ে যারা ক্যাজুয়াল কিংবা ওয়েস্টার্ন পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজছেন, তারা খুব সহজেই নোলক, বিছা কিংবা টায়রার মতো প্রাচীন অলংকারগুলো দিয়ে নিজেদের লুকে আনতে পারেন এক অনন্য অভিজাত ছোঁয়া। এতে যেমন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে উদযাপিত করা হয়, তেমনি উৎসবের আলোয় নিজেকে ফুটিয়ে তোলা যায় সবার থেকে আলাদা ও আধুনিক রূপে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর