আসন্ন দুর্গোৎসবে নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই সাজের ভাবনায় হ্যান্ডলুম, তাঁত বা জামদানির সঙ্গে অক্সিডাইজ়ড বা মেটালের গয়নার আবেদন চিরন্তন। বিশেষ করে অ্যান্টিক ফিনিশ বা অক্সিডাইজ়ড গয়না যেকোনো নারীর সাজেই এক অনন্য ঐতিহ্যবাহী ও কুল লুক এনে দেয়। প্রতিবার পুজোয় নতুন গয়না কিনতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। বরং ঘরের কোণে সযত্নে রাখা পুরোনো অক্সিডাইজ়ড গয়নাগুলোকেই যদি একটু সময় নিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া যায়, তবে তা নিমেষেই নতুনের মতো ঝকঝকে ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই বিশেষ ধরনের গয়না পরিষ্কার করার ও সংরক্ষণের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা না জানলে গয়নার ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আসুন জেনে নেই, পুরোনো অক্সিডাইজ়ড গয়না চকচকে ও নতুনের মতো রাখার কার্যকরী উপায়গুলো…
পরিষ্কার করার প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর ধাপ
অক্সিডাইজ়ড গয়নার ডিজাইন বা কাজের ধরন সাধারণত বেশ সূক্ষ্ম ও নিখুঁত হয়। এই সূক্ষ্ম খাঁজে খাঁজে ঘাম, তেল, ধুলো-ময়লা এবং প্রসাধন সামগ্রীর অবশিষ্টাংশ জমে থাকতে পারে, যা খালি চোখে সবসময় ধরা পড়ে না। গয়নার এই লুকানো ময়লা দূর করতে একটি পরিষ্কার নরম সুতির কাপড় বা খুব নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন। ব্রাশ দিয়ে একেবারে হালকা হাতে আলতো করে ঘষে কোণে জমে থাকা ময়লা বের করে নিন। খেয়াল রাখবেন, কোনোভাবেই যেন অতিরিক্ত চাপ বা জোরে ঘষা না হয়, কারণ এতে গয়নার মূল নকশা বা ফিনিশিং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাবান জলের ব্যবহার নিয়ে বিশেষ সতর্কতা
অক্সিডাইজ়ড গয়না এমনিতেই বাতাস, আর্দ্রতা ও ঘামের সংস্পর্শে দ্রুত কালো বা মলিন হয়ে যায়। তাই এ ধরনের গয়না সাবান জলে সরাসরি ডুবিয়ে বা ভিজিয়ে পরিষ্কার না করাই সবচেয়ে ভালো। তবে যদি গয়নাটি খুব বেশি ময়লা হয়ে যায় এবং পরিষ্কার করা অনিবার্য হয়ে পড়ে, তবে খুব সামান্য পরিমাণ মাইল্ড লিকুইড সোপ বা তরল সাবান জলে মিশিয়ে নিন। এরপর একটি সুতির কাপড় সেই হালকা সাবান জলে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে নিন, যেন কাপড়টি শুধু ভেজা থাকে কিন্তু জল চুইয়ে না পড়ে। ওই ভেজা কাপড় দিয়ে আলতো করে গয়নাটি মুছে ফেলুন। গয়না মোছা শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে একটি শুকনো নরম কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। গায়ে সামান্য আর্দ্রতা লেগে থাকলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
যে উপাদানগুলো ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবেন
অনেকেই ঘরোয়া টোটকা হিসেবে রুপো বা সাধারণ গয়না পরিষ্কারের নানা পদ্ধতি অক্সিডাইজ়ড গয়নার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করে ফেলেন, যা মারাত্মক ভুল। অক্সিডাইজ়ড গয়নার ক্ষেত্রে নিচের উপাদানগুলো ভুলেও ব্যবহার করবেন না…
লেবুর রস ও ভিনিগার: এগুলোর অ্যাসিডিক উপাদান অক্সিডাইজড আস্তরণ পুরোপুরি তুলে ফেলে গয়নার আসল রূপ নষ্ট করে দেয়।
টুথপেস্ট বা বেকিং সোডা: এগুলো গয়নার ওপরের অ্যান্টিক ফিনিশ বা কালো আস্তরণ ক্ষয় করে গয়না নষ্ট করে দেয়।
সরাসরি পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট: পারফিউম বা মেকআপ স্প্রে সরাসরি গয়নার ওপর পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় গয়না দ্রুত কালচে ও নষ্ট হয়ে যায়। তাই সাজ শেষ করার পর গয়না পরিধান করা শ্রেয়।
দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
পুজোর কদিন বা অন্য সময়ে ব্যবহারের পর অক্সিডাইজ়ড গয়না যেখানে-সেখানে খোলা অবস্থায় ফেলে রাখবেন না।
ব্যবহারের পর নরম কাপড়ে মুছে আলাদা ছোট পাউচ ব্যাগ বা ছোট কাপড়ের প্যাকেটে ভরে রাখুন।
বর্ষার আর্দ্রতা বা সাধারণ স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকে গয়নাকে দূরে রাখতে গয়নার বাক্সে একটি ছোট সিলিকা জেলের প্যাকেট রেখে দিতে পারেন। এটি অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নিয়ে গয়না ভালো রাখবে।
নতুন কেনাকাটার ভিড়ে পুরোনোকে নতুন করে চেনার আনন্দই আলাদা। একটুখানি সময় আর সঠিক যত্নে আপনার অ্যালমারির কোণে পড়ে থাকা পুরোনো অক্সিডাইজ়ড গয়নাগুলোই হয়ে উঠতে পারে এই পুজোর সবচেয়ে ট্রেন্ডি ও আকর্ষণীয় অ্যাকসেসরিজ। হ্যান্ডলুমের শাড়ি বা কাজ করা কুর্তির সঙ্গে এই পুরোনো গয়নাগুলোর কুল ও অ্যান্টিক লুক আপনার ব্যক্তিত্বে যোগ করবে এক অনন্য আভিজাত্য। তাই এই পুজোয় বাড়তি খরচ বা নতুন গয়না কেনার ঝামেলায় না গিয়ে, আপনার পুরোনো অক্সিডাইজ়ড গয়নাগুলোকে দিন এক নতুন জীবন। যত্নে রাখুন, সুন্দরভাবে সাজুন আর শরতের এই সোনালী রোদ্দুরে আপনার অনন্য সাজে ছড়িয়ে দিন উৎসবের শারদীয় আনন্দ।