মৌসুমি বদল কিংবা ঠান্ডা লাগার কারণে ঘরে ঘরে এখন সর্দি-জ্বরের দাপট। আর এই অসুস্থতার সময়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় মুখের বিরক্তিকর তেতো ভাব এবং খাবারের প্রতি চরম অরুচি। মুখে যতই স্বাদহীনতা থাকুক না কেন, এই সময়ে একটু টক-ঝাল-মিষ্টি কিছু খাওয়ার ক্রেভিং যেন ঠিকই জেগে ওঠে! বাজারে এখন ভরপুর মিলছে টাটকা আনারস, পেয়ারা আর আমড়া। এই ফলগুলো দিয়ে ঝটপট বানিয়ে ফেলতে পারেন জিভে জল আনা সুস্বাদু ‘টক ফল মাখা’। মুখের জবরদস্ত স্বাদ ফেরাতে এবং একঘেয়েমি কাটাতে এটি দারুণ জাদুকরী কাজ করে।
ফল মাখার স্বাস্থ্যগুণ ও সতর্কতা
আনারস, পেয়ারা ও আমড়ায় ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন সি রয়েছে, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, সর্দি-জ্বর সারানোর সরাসরি কোনো ওষুধ নয় এটি। জ্বরের সময় পর্যাপ্ত জল খাওয়া, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি মুখের স্বাদ ফেরাতে পরিমিত পরিমাণে এই ফল মাখা খেতেই পারেন। এছাড়া জ্বরের সময় মুখে ঘা, গলাব্যথা বা অতিরিক্ত টক খাবারে কোনো ধরনের অস্বস্তি থাকলে এই ফল মাখা এড়িয়ে চলাই ভালো। নিজের শারীরিক পরিস্থিতি ও পছন্দ অনুযায়ী ঝাল-লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
মূল ফল: ১ কাপ আনারস কুচি, ১ কাপ পেয়ারা কুচি ও ১ কাপ আমড়া কুচি
মশলা ও ফ্লেভার: ১ টেবিল চামচ টেলা শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ লাল চিনি (বা বিট লবণ), আধা চা চামচ বিট লবণ, ১ টেবিল চামচ কাঁচা লঙ্কা কুচি এবং আধা চা চামচ সাধারণ নুন
প্রধান আকর্ষণ: ২ টেবিল চামচ কাসুন্দি
সুগন্ধের জন্য: ২টি টাটকা লেবুপাতা
তৈরির সহজ প্রণালী
১. প্রথমে আনারস, পেয়ারা ও আমড়া জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর খোসা ছাড়িয়ে পছন্দমতো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। আমড়ার ক্ষেত্রে আঁটি বাদ দিয়ে শুধু শাঁসটুকু কুচিয়ে নিলে খেতে বেশি সুবিধে হবে। পেয়ারা কাটার সময় ভেতরের শক্ত বীজ বাদ দিয়ে দিতে পারেন অথবা পছন্দ অনুযায়ী রাখতেও পারেন।
২. এ বার একটি বড় সাইজের বাটিতে কাটা ফলগুলো একসঙ্গে নিন। তাতে একে একে টেলা শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো, লাল চিনি, বিট লবণ, কাঁচা লঙ্কা কুচি ও সাধারণ নুন ছড়িয়ে দিন।
৩. এর পর সবার ওপরে দিয়ে দিন দুই টেবিল চামচ ঝাঁঝালো কাসুন্দি। এবার হাত বা চামচের সাহায্যে সমস্ত উপকরণ খুব ভালোভাবে একসঙ্গে মেখে নিন, যেন প্রতিটি ফলের টুকরোয় মশলা ও কাসুন্দি সমানভাবে কোট হয়ে যায়।
৪. সবশেষে লেবুপাতাগুলো ছোট ছোট করে ছিঁড়ে বা কুচিয়ে ফল মাখার সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এর জাদুকরি সুবাস পুরো মাখায় এক চমৎকার সুগন্ধ এনে দেবে। ব্যস, নিমিষেই তৈরি হয়ে গেল ঝাল-টক-মিষ্টি স্বাদের লোভনীয় ফল মাখা!
স্বাদ আরও বাড়িয়ে তোলার কিছু টিপস
ফল মাখার আসল স্বাদ পেতে সবসময় পরিবেশনের ঠিক আগে ফলগুলো মাখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। অনেকক্ষণ আগে মাখিয়ে রাখলে ফল থেকে জল ছেড়ে নরম ও পাতলা হয়ে যেতে পারে।
ঝাল কম খেতে চাইলে লঙ্কার পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারেন। অন্যদিকে, একটু বেশি টক পছন্দ করলে আমড়ার পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে নিতে পারেন।
একটি সুন্দর পাত্রে সাজিয়ে কাঁটাচামচ দিয়ে পরিবেশন করুন এই রিফ্রেশিং টক ফল মাখা। সর্দি-জ্বরের ক্লান্তি আর মুখের তেতো ভাব এক নিমেষে দূর করে এটি আপনার মনে এনে দেবে চনমনে সতেজতা। আজই বিকেলের নাস্তায় বা মুখের স্বাদ বদলাতে ঝটপট ট্রাই করে ফেলুন এই লোভনীয় রেসিপিটি!