Thursday 15 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসুন ঢাকার কাছেই

লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:১০

পূজার কদিনের দীর্ঘ ছুটি কিংবা উইকেন্ডের এক চিলতে অবকাশ-যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততা ভুলে আপনজনদের নিয়ে একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়ার মজাই আলাদা। কিন্তু দূরে কোথাও যাওয়ার মতো হাতে সময় বা সুযোগ না থাকলেও মন খারাপ করার কোনো কারণ নেই! রাজধানী ঢাকার আশপাশে এমন অনেক চমৎকার, ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জায়গা রয়েছে, যেখানে সকালে রওনা দিয়ে দিনেই ঘুরে আবার নিরাপদে ফিরে আসা সম্ভব। ছোট এই ডে-ট্যুরগুলো একদিকে যেমন আপনার ক্লান্তি দূর করবে, অন্যদিকে পুজোর কটা দিনকে ভরিয়ে তুলবে নতুন উচ্ছ্বাস ও আনন্দের রঙে।

আসুন জেনে নেই, ঢাকা থেকে খুব সহজেই একদিনে ঘুরে আসা যায় এমন সেরা কিছু দর্শনীয় স্থানের কিছু তথ্য…

বিজ্ঞাপন

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ‘বালিয়াটি প্যালেস’ নামে পরিচিত এই চুন-সুরকি ও লোহার পাতে নির্মিত সুবিশাল বাড়িতে প্রায় ২০০টি কক্ষ রয়েছে, যার প্রতিটিতেই রয়েছে সুনিপুণ কারুশিল্পের ছোঁয়া। তৎকালীন জমিদারদের জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাত্রা দেখতে এখানে ঘুরে আসতে পারেন।

যাওয়ার উপায়: ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী বাসে উঠে সাটুরিয়া নেমে যেতে পারেন। এছাড়া গাবতলী থেকে সরাসরি সাটুরিয়াগামী ‘এস বি লিংক’ বাসেও যাওয়া সম্ভব।

মহেরা জমিদার বাড়ি (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ৮ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটি বর্তমানে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর চারপাশের শান্ত পরিবেশের পাশাপাশি এখানে মিনি পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ও বোট রাইডের দারুণ সুব্যবস্থা রয়েছে।

যাওয়ার উপায়: ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন বাসে চড়ে নাটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে সিএনজি, রিকশা বা অটোরিকশায় সহজেই মহেরাপাড়া পৌঁছানো যায়।

নুহাশপল্লী (গাজীপুর)

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া প্রিয় ‘নুহাশ পল্লী’ গাজীপুর সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই নিঝুম ও সবুজ চত্বরে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছপালা, শুটিং স্পট এবং হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচিহ্ন। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে এটি এক দারুণ জায়গা।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে প্রভাতি বা বনশ্রী বাসে হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড নেমে সেখান থেকে রিকশা বা সিএনজি রিজার্ভ করে নুহাশপল্লী যাওয়া যায়।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক (গাজীপুর)

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের আদলে তৈরি আধুনিক পার্ক। এখানকার কোর সাফারিতে উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, জিরাফ ও জেব্রার বিচরণ দেখার অভিজ্ঞতা আপনার রোমাঞ্চপ্রেমী মনকে তৃপ্ত করবে।

যাওয়ার উপায়: মহাখালী থেকে শ্রীপুর, ভালুকা বা ময়মনসিংহগামী বাসে চড়ে ‘বাঘের বাজার’ নেমে সেখান থেকে অটোরিকশায় সাফারি পার্কে পৌঁছানো যায়।

জল ও জঙ্গলের কাব্য (গাজীপুর)

টঙ্গীর পুবাইলে ৯০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা পাইলট বাড়ি খ্যাত এই রিসোর্টটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। চারপাশের পরিবেশকে সম্পূর্ণ অবিকৃত রেখে বাঁশ আর পাটখড়ির কারুকার্যে এটি সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে বিলের ওপর বসে অপার্থিব জোছনা উপভোগ করার জন্য এখানে বহু মানুষ ভিড় জমান।

যাওয়ার উপায়: মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে নরসিংদী বা কালিগঞ্জগামী বাসে পুবাইল কলেজ গেট নেমে সেখান থেকে রিকশায় এই রিসোর্টে যাওয়া যায়।

পানাম নগর ও সোনারগাঁও জাদুঘর (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানাম নগর আমাদের কাছে ‘হারানো নগরী’ হিসেবে পরিচিত। ১৫ শতকে ঈশা খাঁর আমলে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপিত হয়েছিল এখানে। পানাম নগরের অদূরেই রয়েছে লোকশিল্প জাদুঘর। প্রাচীন এই স্থপত্যকলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য এক দিনেই ঘুরে দেখে আসা খুব সহজ।

যাওয়ার উপায়: ঢাকার গুলিস্তান থেকে এসি বা নন-এসি বাসে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা নেমে সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত অটো বা রিকশায় পানাম নগর পৌঁছানো যায়।

জিন্দা পার্ক (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ একর এলাকাজুড়ে জিন্দা পার্ক এক পরিপাটি ও সুন্দর পার্ক। এখানে ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশি গাছ, ৫টি বিশাল জলাধার, লাইব্রেরি, ক্যান্টিন এবং নৌবিহারের জন্য লেকে সুন্দর নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে।

যাওয়ার উপায়: কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিট রাস্তা দিয়ে সিএনজি বা লেগুনা করে কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে বাইপাসের মোড় থেকে অটোরিকশায় জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়।

পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট (মুন্সিগঞ্জ)

ঢাকার খুব কাছে মুন্সিগঞ্জ জেলার মাওয়া ঘাটের কাছাকাছি পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এটি একটি চমৎকার রিসোর্ট। পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীদের নিয়ে নদীর মুক্ত হাওয়া ও মনোরম পরিবেশে দিন কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ ও জনপ্রিয় গন্তব্য।

যাওয়ার উপায়: গুলিস্তান থেকে সরাসরি মাওয়া ঘাটগামী বাসে গিয়ে সেখান থেকে রিসোর্টের নিজস্ব স্পিডবোট বা ট্রলারে করে রিসোর্টে পৌঁছাতে পারেন।

ড্রিম হলিডে পার্ক (নরসিংদী)

নরসিংদীর পাঁচদোনার চৈতাবাতে প্রায় ৬০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই থিম পার্কে রয়েছে ওয়াটার বাম্পার কার, রাইডার ট্রেন, স্পিডবোট, এয়ার বাইসাইকেল, ডুপ্লেক্স কটেজ এবং কৃত্রিম অভয়ারণ্য। ছোটবড় সবার জন্যই এটি দারুণ উপভোগ্য একটি স্থান।

যাওয়ার উপায়: বনানী বা গুলিস্তান থেকে নরসিংদী বা ভৈরবগামী বাসে চড়ে সরাসরি ড্রিম হলিডে পার্কের মূল ফটকের সামনেই নামা যায়।

শালবন বৌদ্ধ বিহার (কুমিল্লা)

কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম প্রধান নিদর্শন। পাহাড়পুর বিহারের আদলে তৈরি এই ঐতিহাসিক স্থানটি ঘিরে রয়েছে শাল ও গাজারির বন। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের প্রতি যাদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য এটি চমৎকার একটি ডে-ট্রিপ হতে পারে।

যাওয়ার উপায়: ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কুমিল্লাগামী বাসে এসে প্রথমে টমছম ব্রিজ বাস স্ট্যান্ড নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় কোটবাড়িতে অবস্থিত শালবন বিহারে যাওয়া যায়।

পূজার এই আনন্দঘন দিনগুলোতে শহর থেকে একটু দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো সময়গুলো আপনার মনের ক্লান্তি দূর করে একরাশ সজীবতা ফিরিয়ে আনবে। ছুটির দিনগুলোতে ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে পরিবার বা প্রিয়জনদের সঙ্গে চমৎকার কিছু মুহূর্ত কাটাতে আজই বেছে নিন আপনার পছন্দের গন্তব্যটি। গোছগাছ সেরে ফেলুন আর বেরিয়ে পড়ুন এক সুন্দর ও স্মৃতিনীয় দিনের ভ্রমণে!

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর