মহাসপ্তমী মানেই দুর্গাপূজার মূল পর্বের আড়ম্বরপূর্ণ সূচনা। সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্নানের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নেমে আসে। মহাষষ্ঠীর স্নিগ্ধ ও সাধারণ ভাব কাটিয়ে সপ্তমীর দিনটিতে সাজগোজে উৎসবের গাঢ় রঙ ও কিছুটা জমকালো আমেজ যুক্ত করার উপযুক্ত সময়। উজ্জ্বল রোদের আলোয় দিনটিতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ফুটিয়ে তোলা যায় পোশাকে, মেকআপে ও অলংকারে।
পোশাকের নির্বাচন: ঐতিহ্যময় ক্যানভাসে রঙের খেলা
সপ্তমীর সকালে ও বিকেলে পোশাকে মার্জিত অথচ উজ্জ্বলতার ছোঁয়া থাকা চাই। নারীদের জন্য শাড়ি হিসেবে হাফ-সিল্ক, সিল্ক, চান্দেরি কিংবা সুন্দর ডিজিটাল ও ব্লক প্রিন্টের শাড়ি বেছে নেওয়া যেতে পারে। বাসন্তী, মেজেন্টা, হালকা নীল, কাঁচা হলুদ কিংবা ঐতিহ্যবাহী লাল-হলুদের সংমিশ্রণের শাড়ি সপ্তমীর সতেজ রোদে দারুণ ফুটে ওঠে। অন্যদিকে যারা শাড়ির বদলে আরামদায়ক পোশাক পছন্দ করেন, তারা হালকা কাজের থ্রি-পিস, আনারকলি কিংবা ফিউশন কুর্দি বেছে নিতে পারেন।
মেকআপ ও কেশসজ্জা: সতেজ ও প্রাণবন্ত লুক
সপ্তমীর উজ্জ্বল আলোয় মেকআপ হওয়া চাই বেশ সতেজ ও দীর্ঘস্থায়ী। দিনের বেলা মণ্ডপে ঘোরার সময় ঘাম ও রোদের কথা মাথায় রেখে সানস্ক্রিনের ওপর ওয়াটারপ্রুফ ফাউন্ডেশন বা সিসি ক্রিম দিয়ে হালকা বেস তৈরি করা ভালো। চোখে কিছুটা ড্রামাটিক লুক আনতে কাজল ও গাঢ় আইলাইনারের পাশাপাশি হালকা ব্রাউন বা গোল্ডেন আইশ্যাডো ব্যবহার করা যায়। ঠোঁটে ম্যাট ফিনিশের মেজেন্টা, পিংক বা রেড লিপস্টিক সপ্তমীর সাজে চমৎকার এক প্রাণবন্ত ভাব এনে দেয়। কেশসজ্জায় চুল সুন্দর করে আলগা খোঁপা করে তাতে তাজা বেলির মালা বা গোলাপ জড়িয়ে নিলে ঐতিহ্যময় ও রাজকীয় এক লুক তৈরি হয়।

গহনার নির্বাচন: অলংকারের আভিজাত্য
সপ্তমীর সাজকে পূর্ণতা দিতে মেটালের কিংবা অক্সিডাইজড জুয়েলারির জুড়ি নেই। সিল্ক বা চান্দেরি শাড়ির সাথে কানে গর্জিয়ান কান পাশা, অক্সিডাইজডের বড় ঝুমকা এবং গলায় মাঝারি দৈর্ঘ্যের হাসুলি বা লকেট সেট বেশ মানিয়ে যায়। আর হাতভর্তি মেটাল বা কাঁচের লাল-হলুদ চুড়ির ছোঁয়া রূপালী পর্দার ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। যারা ফিউশন পোশাক পরছেন, তারা কাঠের বা কাপড়ের নান্দনিক ফিউশন গহনা দিয়েও নজরকাড়া লুক তৈরি করতে পারেন।
পুরুষদের ফ্যাশন ও মানানসই জুতোর ব্যবহার
পুরুষদের জন্য সপ্তমীর পোশাক হতে পারে ঐতিহ্যবাহী পেস্টেল বা গাঢ় শেডের কটন-সিল্কের পাঞ্জাবি। সাদা পাজামা, চুড়িদার কিংবা ঐতিহ্যবাহী লাল পাড়ের ধুতি-পাজামার সাথে সিল্কের পাঞ্জাবি পরলে উৎসবের আমেজ ষোলকলা পূর্ণ হয়। পোশাকের সাথে জুতোর নির্বাচনেও নজর দেওয়া জরুরি। সিল্কের পাঞ্জাবি ও ধূতি-পাজামার সাথে পায়ে চামড়ার কারুকাজ করা রাজকীয় নাগরা বা চকচকে লফোর্স চমৎকার মানায়। আর যারা বন্ধুদের সাথে মণ্ডপ দর্শনে যাওয়ার জন্য সুতির শর্ট পাঞ্জাবির সাথে জিন্স কিংবা আধুনিক ফিউশন পোশাক পছন্দ করেন, তারা পায়ে পরতে পারেন আরামদায়ক ক্যানভাস কেডস, স্নিকার্স কিংবা ক্লাসিক লেদার ক্যাজুয়াল বুটস। এই বৈচিত্র্যময় সাজে পুরো সপ্তমীর দিনটি হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়।