Sunday 18 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মহাঅষ্টমীর দেবীবন্দনায় রাজকীয় রূপ ও স্নিগ্ধ সাজ

ফারহানা নীলা
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৩৯

শারদীয় দুর্গোৎসবের সবচেয়ে শুভ, গুরুত্বপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণ দিন হলো মহাঅষ্টমী। সকালে পুষ্পাঞ্জলির ভক্তিভরে প্রার্থনা, কুমারী পুজোর পরম পবিত্রতা এবং রাতে সন্ধিপুজোর আধ্যাত্মিক আমেজ সব মিলিয়ে অষ্টমীর দিনটি কেটে যায় এক রাজকীয় আভিজাত্যে। বছরের এই একটি দিন সবাই চান নিজেকে সবচেয়ে চোখধাঁধানো ও ঐতিহ্যবাহী রূপে সাজিয়ে তুলতে। ঐতিহ্য, শ্রদ্ধা এবং উৎসবের এই অপূর্ব সংমিশ্রণে অষ্টমীর দিনটিতে পোশাক থেকে শুরু করে মেকআপ, গহনা এবং জুতোর নির্বাচনে থাকা চাই নিখুঁত পরিকল্পনা।

অষ্টমীর সকালে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের রাজকীয় ছোঁয়া

মহাঅষ্টমীর অঞ্জলি এবং দিনভর আরাধনার জন্য বাঙালি নারীদের চিরন্তন ও প্রিয় পছন্দ লাল পাড় সাদা বা অফ-হোয়াইট রঙের শাড়ি। এই বিশেষ দিনে খাঁটি বেনারসি, জামদানি, বালুচরি, কাতান কিংবা ঐতিহ্যবাহী গরদের শাড়িতেই সবচেয়ে বেশি আভিজাত্য ফুটে ওঠে। লাল ও সাদার পাশাপাশি লাল-বাসন্তী কিংবা গাঢ় মেরুন রঙের শাড়িও অষ্টমীর সকালে দারুণ মানানসই। অন্যদিকে, সকালে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত কুমারী পুজো দেখতে যাওয়ার সময় ভক্তির আবহে স্নিগ্ধ ভাব বজায় রাখতে হালকা গোলাপি, ঘিয়ে, হালকা হলুদ বা প্যাস্টেল শেডের জামদানি কিংবা মসলিন শাড়ি পরা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আভিজাত্যপূর্ণ মেকআপ ও ঐতিহ্যময় কেশসজ্জা

অষ্টমীর দিনের মেকআপ হওয়া চাই বেশ গাঢ়, ক্লাসিক ও রাজকীয়। নিখুঁত লং-লাস্টিং বেস মেকআপের সাথে কপালে একটি বড় লাল টিপ এবং ঠোঁটে গাঢ় লাল, মেরুন বা ড্রামাটিক লিপস্টিক মহাঅষ্টমীর সাজে আনবে অনন্য মাত্রা। চোখের সাজে বোল্ড টানা আইলাইনার, ঘন মাসকারা এবং কাজলের ছোঁয়া ট্রেডিশনাল লুককে সম্পূর্ণ করে। চুল সুন্দর করে ঘুরিয়ে শক্ত ভারী খোঁপা বা সিঁথি কেটে পরিপাটি খোঁপা করে তাতে তাজা গাঁদা, বেলি কিংবা রজনীগন্ধার মালা জড়িয়ে নিলে অষ্টমীর সার্বজনীন রূপটি নিখুঁত হয়ে ওঠে। তবে কুমারী পুজোর সময় মেকআপে স্নিগ্ধতা বজায় রাখতে খুব হালকা প্রলেপ ও ছোট একটি মিষ্টি টিপ ব্যবহার করাই শ্রেয়।

খাঁটি গহনার দ্যুতি ও রাজকীয় অলংকার

অষ্টমীর দিনে সাধারণ মেটালের গহনা এড়িয়ে খাঁটি সোনার গয়না বা গর্জিয়াস অ্যান্টি ক্যারেটের গয়না পরলে আসল আভিজাত্য ফুটে ওঠে। ভারী সীতাহার, কানের ঝুমকা বা কানপাশা, হাতে সোনার বা বাঁধানো বালা এবং নথ অষ্টমীর শাড়ির সাথে চমৎকার রাজকীয় ভাব এনে দেয়। অন্যদিকে কুমারী পুজোর স্নিগ্ধতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে হালকা মুক্তোর বা সূক্ষ্ম সোনার চেইন এবং ছোট কানের দুল বেছে নেওয়া ভালো, যা পবিত্রতার আবহ বজায় রাখবে।

পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও মানানসই জুতোর নির্বাচন

অষ্টমীতে পুরুষদের পোশাকে শতভাগ ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলাই দস্তুর। সাদা, ঘিয়ে বা কাঁচা সোনা রঙের সিল্ক বা তাসর পাঞ্জাবির সাথে ট্রেডিশনাল লাল পাড়ের সুতি বা সিল্কের ধুতি পরলে মহাঅষ্টমীর ঐতিহ্য ষোলকলা পূর্ণ হয়। যারা ধুতি সামলাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তারা প্রিমিয়াম সিল্কের কলার ও হাতায় কারুকাজ করা ভারী পাঞ্জাবির সাথে কটন-সিল্কের চুড়িদার পাজামা বেছে নিতে পারেন। আর কুমারী পুজোর পবিত্র মুহূর্তের জন্য মার্জিত একরঙা সুতির হালকা রঙের পাঞ্জাবি-পাজামা একদম পারফেক্ট।

পোশাকের রাজকীয় ভাবের সাথে পুরুষদের জুতোর নির্বাচন হতে হবে অত্যন্ত মানানসই। ভারী সিল্কের পাঞ্জাবি ও ধুতির সাথে পায়ে পশমি বা চামড়ার নিখুঁত কারুকাজ করা রয়্যাল নাগরা অথবা জারদৌসি কাজের এথনিক জুতি সবচেয়ে দারুণ ফুটে ওঠে। আবার যারা চুড়িদার পাজামা বা ক্লাসিক পাঞ্জাবি পরছেন, তারা বেছে নিতে পারেন প্রিমিয়াম লেদার লফোর্স বা স্যুয়েড লেদারের স্লিপ-অন জুতো। কোনো কারণে যদি ক্যাজুয়াল কটন পাঞ্জাবি ও জিন্স পরা হয়, তবে তার সাথে পায়ে চামড়ার বেল্ট স্যান্ডেল বা ক্লাসিক কেডস পরলে সারাদিন মণ্ডপে ঘোরাঘুরি ও অঞ্জলি দেওয়া বেশ আরামদায়ক হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর