Tuesday 13 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘স্বাধীনতা ব্যবসা ও ধর্ম ব্যবসার বিরুদ্ধে জাগ্রত আমাদের কবিতা’

সারাবাংলা ডেস্ক
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৩

জাতীয় কবিতা পরিষদের ৬২তম কবিতাপাঠ ও আলোচন সভা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় কবিতা পরিষদ স্বাধীনতা ব্যবসা ও ধর্ম ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সদা জাগ্রত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি কবি মোহন রায়হান। জাতীয় কবিতা পরিষদের ৬২তম কবিতাপাঠ ও আলোচন সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মুনির চৌধুরী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা সঞ্চালনা করেন কবি শিমুল পারভীন ও কবি নাহিদ হাসান।

সূচনা বক্তব্যে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘আর দুই সপ্তাহ পরে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় কবিতা উৎসব। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সৃষ্ট জাতীয় কবিতা পরিষদ মাঝের এক দশক বেহাত হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতি নতজানু ভূমিকা পালন করেছে। কবিদের এই দলদাস ভূমিকা সময়েরই প্রতিফলন ছিল। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র টিকেছিল কবিদের এই সমবেত দলদাসের ভূমিকার কারণে।’

বিজ্ঞাপন

ইমরান মাহফুজ ‘কবিতায় বিল্পব, বিপ্লবের কবিতা’ শীর্ষক আলোচনায় বলেন, ‘একজন কবিকে দিয়ে আর কিছু না হোক বোমাবাজি হয় না, দখলদারি হয় না। কবিতা দিয়ে যিনি সম্পদ গড়েছেন, তার কবিতা হৃদয় ছুঁয়ে যায় না। আর যিনি সম্পদের পাহাড় গড়েন তার কবিতা হৃদয় থেকে হারিয়ে যায়।’

ইমরান মাহফুজ ঊনসত্তর থেকে বাংলা কবিতার যাত্রাকে নির্মাণ করেন তার আলোচনায়। যার সূত্রপাত ঘটে কবি হেলাল হাফিজের অমর সৃষ্টি ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ দিয়ে। আল মাহমুদের প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতা স্বাধীনতাউত্তর সময়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফিরে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রামবাসী আসন বাড়িয়ে বলছেন, ‘তুমি তো আমাদেরই গাঁয়ের সন্তান’।

ইমরান বলেন, ‘দেশবাসী চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের নায়কদেরও আমাদের গাঁয়ের সন্তান বলেছেন। কিন্তু তারা সেই আসন চিনতে না পারলে দেশ আবার অজানা পথে ভেসে যেতে থাকে।’

তিনি বলেন, “৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের রাজপথে যে দু’জনের কবিতা সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে তিনি মোহন রায়হান ও রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। সাহসী মানুষ চাই কবিতায় মোহন রায়হান সমাজের ভীরু, দালাল বুদ্ধিজীবী ও সুবিধাভোগীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ছুঁড়েছেন, ‘তোমাদের মাথা থেকে দৃঢ় হাতে খুলে নেব কবির শিরোপা/তোমাদের মুখে আমি থুথু দিই, থুথু দিই, থুথু দিই/তোমার মাথার খুলি আমি আঘাতে উড়িয়ে দেব।’ যা তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদের ধারার একটি শক্তিশালী উদাহরণ।”

চব্বিশের আন্দোলন থেকে একজন কবিও উঠে আসেনি বলে আক্ষেপ করেন ইমরান মাহফুজ। কারণ, ‘কবি কাপুরষ হলে পৃথিবীতে নামে অন্ধকার ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মূলধারার কোনো কবি এই আন্দোলনকে ধারণ করেনি। তবে এই আন্দোলনেও ব্যবহারিত হয়েছে অমর পংক্তি ‘বুকে আমার দারুন ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।’

সমাপনী বক্তব্যে কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘৬৬ শিক্ষা আন্দোলন থেকে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, প্রত্যেকটি লড়াইয়ে আমি রাজপথে ছিলাম। কিন্তু নেতৃত্বের দুর্বলতা, জনগণের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির অভাবের কারণে বারবার আমাদের সমস্ত অভ্যুত্থান-বিপ্লব তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, “হাসিনা সরকারের আমলে ‘একান্ত অনুভূতি’ কবিতা লেখার জন্য কবি কামাল চৌধুরী তাকে ফোন করে বলেছিল, তুই কি আবার জেলে যেতে চাস? ভালো হয়ে যাওয়ার নসিহত দিয়ে ফোন রেখে দিয়েছিল কামাল চৌধুরী।”

অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন, শ্যামল জাকারিয়া, আসাদ কাজল, মাশরুর শাকিল। সঙ্গীত পরিবেশন করেন বরেণ্য শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। এছাড়া, অনুষ্ঠানে স্বরচি কবিতা পাঠ করেন ৭০ জন কবি।

বিজ্ঞাপন

বসন্তের ছোঁয়ায় বুবলী
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৫

আরো

সম্পর্কিত খবর