Tuesday 24 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বইমেলায় মোহাম্মদ আব্দুল হালিম-এর ৩টি বই

সারাবাংলা ডেস্ক
২৪ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩০ | আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩১

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম— যিনি একাধারে একজন কবি, প্রাবন্ধিক এবং দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেনানিবাসের সিএমএইচে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে তার জন্ম। তার পিতার বাসস্থান ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা থানার শিকারপুর গ্রাম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসন বিভাগে সম্মান ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর ২৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে তার উজ্জ্বল পদচারণা ছিল। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রাফিক এন্ড ড্রাইভিং স্কুল, ঢাকা) হিসেবে কর্মরত।

বিজ্ঞাপন

ব্যস্ততম পেশার মাঝেও তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করে যাচ্ছেন। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বান্দরবানে ঝর্ণা বিলাস’, ‘ব্লু হেলমেটস’ এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণামূলক ম্যানুয়াল। ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে জড়িত থাকায় তার লেখনিতে দেশপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত প্রগাঢ়ভাবে ফুটে ওঠে।

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম-এর সাহিত্যচর্চা বহুমুখী ও সময়োপযোগী। তার বর্তমান তিনটি কাজ মূলত ভিন্ন তিনটি প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে আছে— ইতিহাস, সমসাময়িক বিপ্লব এবং আধ্যাত্মিকতা।

কবিতায় শহীদ জিয়া

এই কাব্যগ্রন্থে লেখক বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মকে কবিতার ছন্দে ফুটিয়ে তুলেছেন। ১৯৭১-এর উত্তাল সময়ে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেমের বীরত্বগাথা এখানে ইতিহাসের দলিল ও কাব্যের সংমিশ্রণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ‘কবিতায় শহীদ জিয়া’, কোনো একক ব্যক্তির গুণগান নয়, বরং একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন সেই সময়ের কেন্দ্রবিন্দু, একজন যোদ্ধা থেকে সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার বিরল দৃষ্টান্ত। তার কবিতাগুলো সেই সময়ের আশা-আকাক্সক্ষা, সংঘাত এবং একজন মানুষের দৃঢ় নেতৃত্বকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। বেশির ভাগ কবিতা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে লেখা (১৯৯৭-২০০৩) আর তাই আবেগগুলো ছন্দ আকারে তুলে ধরা অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে যথার্থ মনে নাও হতে পারে।

ইতিহাসকে কেবল কিছু ঘটনার সমষ্টি হিসেবে দেখলে তার গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। সাহিত্য, বিশেষ করে কবিতা, সেই সময়ের মানুষের অনুভূতি, তাদের বিশ্বাস এবং স্বপ্নগুলোকে ধারণ করে। এই কবিতাগুলোতে চেষ্টা করা হয়েছে শহীদ জিয়ার জীবন ও কর্মের মধ্যে নিহিত সেই স্পন্দনটিকে অনুভব করতে এবং তা পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে। তার কবিতার কিছু পঙ্ক্তি সরাসরি শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন বা সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলে, আবার কিছু একজন সাধারণ মানুষের চোখে তার প্রভাবকে চিত্রিত করে। কবির উদ্দেশ্য ছিল একটি সামগ্রিক চিত্র আঁকা, যেখানে একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব কেবল একটি নাম বা পদবী নন, বরং একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে পাঠকের সামনে উপস্থিত হন।

লাল জুলাই কাব্য

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের এক জীবন্ত দলিলাবেজ এই কাব্যগ্রন্থ। জুলাই মাসের উত্তাল দিনগুলোতে আবু সাঈদ, মুগ্ধদের আত্মত্যাগ এবং ফ্যাসিবাদের পতনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাগুলো প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে দ্রোহ ও স্বাধীনতার চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করে। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা থাকায় সে সময় জোড়ালো প্রতিবাদ করার ইচ্ছে থাকলেও তা করতে না পারার যন্ত্রনার প্রতিচ্ছবি এই কাব্য।

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কবি ও লেখকের দ্বিতীয় কবিতাগ্রন্থ ‘লাল জুলাই কাব্য’। এটি কেবল নিছক কোনো কবিতার বই নয়; বরং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের আর্তনাদ, ক্ষোভ এবং মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য দলিল। গ্রন্থটির কবিতাগুলো কোনো অলস দুপুরে বা নিভৃত অবসরে লেখা হয়নি। লেখক জানিয়েছেন, এক অদ্ভুত অস্থির সময়ে, যখন চারপাশ উত্তাল এবং পরিবর্তনের হাওয়ায় কম্পমান, তখনই এই পঙ্ক্তিগুলোর জন্ম। প্রতিটি শব্দে মিশে আছে বিষণ্ণতা, বঞ্চনা এবং এক বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। এটি প্রকৃতির বন্দনা বা চিরাচরিত প্রেমের কাব্য নয়, বরং ব্যক্তিগত কষ্ট থেকে শুরু হয়ে সমষ্টিগত যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে এখানে।

বইটিতে লেখকের নিজের জীবনের ছায়া প্রতিফলিত হয়েছে। কবি ও লেখক স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নয়, বরং একজন সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টি দিয়ে তিনি জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক দিনগুলোকে তুলে ধরেছেন। কর্মজীবনে পদে পদে বঞ্চনা এবং অহেতুক রাজনৈতিক তকমা পাওয়ার যে আক্ষেপ, তারই প্রতিবাদী ভাষা হয়ে উঠেছে এই কাব্যগ্রন্থ।

‘লাল জুলাই কাব্য’ উৎসর্গ করা হয়েছে সেইসব মানুষদের জন্য, যারা দিনের শেষে একটি বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ খোঁজেন এবং নিজেদের ভেতরে ‘লাল জুলাই’-এর আগুন অনুভব করেন। লেখক আশা প্রকাশ করেছেন, পাঠকরা বইটির পাতায় কেবল কবির গল্প নয়, বরং নিজেদের অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলোও খুঁজে পাবেন।

ইতিকাফে রত্ন মিলে

এটি একটি গভীর তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় গবেষণাগ্রন্থ। পবিত্র রমজান মাসে ইতিকাফের গুরুত্ব, এর নিয়ম-কানুন এবং আধ্যাত্মিক সুফলগুলো লেখক অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরেছেন। পার্থিব কোলাহল ছেড়ে স্রষ্টার সান্নিধ্য পাওয়ার এক পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন এই গ্রন্থটি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর