
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে চার ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩৫ শতাংশ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় সংবাদ সম্মেলনে ভোটের এ চিত্র তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক আরিফুল হক সিদ্দিকী জানান, সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয় বুথে-বুথে। সাড়ে ৯টা থেকে ভোট দেওয়া শুরু হয়। এরপর থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
তিনি বলেন, দুপুর পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আছে। শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট দিচ্ছেন। প্রার্থীরা কিছু অভিযোগ দিয়েছেন, আমরা তা আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন। ছবি: সারাবাংলা
ভোট দেওয়ার প্রমাণস্বরূপ অমোচনীয় কালি নিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, দেশে এর চেয়ে আর ভালো কালি তারা খুঁজে পাননি।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন।
এর আগে, অমোচনীয় কালি সহজেই মুছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও ছাত্রফ্রন্ট-ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেলের প্রার্থীরা।
এর জবাবে অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, ‘সারাদেশে খুঁজে আমরা এর থেকে ভালো কালি আর পাইনি। হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন বাজারে খুঁজেছি, কিন্তু এর চেয়ে ভালো কালি কোথাও পাইনি। সেজন্য আমাদের দায়সারা গোছের একটা কালি দিতে হয়েছে। এটা আমাদের জাতীয় অক্ষমতা। ডাকসুতে যে সমস্যা হয়েছে, জাকসুতে যে সমস্যা হয়েছে, এখানেও সেই সমস্যা।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আয়োজনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচন কমিশন চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ভোটকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এ কেন্দ্রে শুধু দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা দুই নির্বাচন কমিশনারের তত্বাবধানের তাদের পছন্দের প্রতিনিধি মনোনয়নে ভোট দিচ্ছেন।
তবে ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আয়েশা আক্তার। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ব্রেইল ব্যালটের ব্যবস্থা করেছিল। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ থেকে ৬২ জন শিক্ষার্থী থাকার পরও তারা আমাদের জন্য ব্রেইল ব্যালটের ব্যবস্থা করেনি।’

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর ব্যবহৃত অমোচনীয় কালি সহজে মুছে যাবার অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে প্রকৌশল অনুষদে ভোট প্রদান শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আজকে ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন হচ্ছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলাম সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে। নির্বাচনে ভোট প্রদানে যে অমোচনীয় কালি ব্যবহারের কথা, তা সহজেই উঠে যাচ্ছে। আমি ভোট দিয়ে এসেছি অথচ এখনই আমার হাতে কালি নেই। এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভোট দিতে এসে আনন্দ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে পুরোপুরি ভোটগ্রহণ শুরু হতে ৩০ মিনিট বিলম্ব হয়।
ভোট দিতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনে ভোট হচ্ছে আমার জীবনের প্রথম ভোট। ভোট দিতে এসে অনেক ভালো লাগছে। তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমি আমার পছন্দের মানুষদের ভোট দিতে পারব। এটা সত্যিই আনন্দের।
আরেক শিক্ষার্থী আবু আয়াস মোহাম্মদ তাওসিফ বলেন ‘ভোটের পরিবেশ এখনো ভালো আছে। এমন একটা দিনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ভোট দিতে আসার অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব না।’

ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা। ছবি: সারাবাংলা
চবি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয় যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর গণনা শেষে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওএমআর ব্যালট পদ্ধতিতে।
ভোট গ্রহণ শুরুর আগে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। প্রতিটি অনুষদ ভবনে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। আড়াই শতাধিক সিসি ক্যামেরায় তদারকি করা হচ্ছে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া।