জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ওএমআর (OMR) মেশিনে ভোট গণনার সময় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া গণনা কার্যক্রম কিছুক্ষণ পরই স্থগিত করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যায় গরমিল ধরা পড়ে। এ কারণে গণনার ফলাফল নিশ্চিত করতে পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তবে তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রাত পর্যন্ত ভোট গণনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গণনা কার্যক্রম শুরু করেছি। মেশিনে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় তা সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। দুটি মেশিনে ভোট গণনার ফলাফল মিলিয়ে দেখার কাজ করা হচ্ছে। সমস্যাটি কোথায় হয়েছে, তা দ্রুত জানানো হবে এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।’

জকসু নির্বাচন। ছবি: সারাবাংলা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে ৬৫ শতাংশ এবং হল সংসদে ৭৭ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে।
ভোট গণনার পূর্বে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জকসু নির্বাচন কমিশনার ড. জুলফিকার মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।”

এই প্রথম জকসু নির্বাচন হওয়ায় প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত। ছবি: সারাবাংলা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে জকসু নির্বাচন কমিশনার ড. জুলফিকার মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন কমিশন বলেন, ‘ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় প্রধান, সহকারী প্রিজাইডিংঅফিসারের মধ্যে সর্বনিম্ন ১ জন শিক্ষক এবং এজেন্টদের থাকতে হবে। আমরা সিরিয়াল করেছি, প্রথমে ১০টি ডিপার্টমেন্টের ভোট গণনা শুরু হবে। এভাবে ইকোনোমেকেলি ভোট গণনা চলতে থাকবে।’

ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নির্বাচন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমারা সকাল থেকে অনেক অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। যাদের এজেন্টের ভোটার তালিকা আসেনি নির্বাচন কমিশন সেগুলো এনে তাদের দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাঝে অনেকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আমরা এসব বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছি। দিন শেষে এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি হয়েছে আমরা তাতে সন্তুষ্ট। নির্বাচন শেষে যে প্রতিনিধি হয়ে আসবে আমরা তাকে অভিনন্দন জানাব।’

জবি: উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৩টায়। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট বন্ধ করা হয়। ভোট প্রদানে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশন অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়সূচির পর মেইন গেট দিয়ে কোনো ভোটার প্রবেশ করতে পারবেন না। ক্যাম্পাসের ভেতরে যারা আছেন তারা ভোট প্রদান শেষে বের হবেন।’

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন জকসুর শিবির প্যানেলের।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন থেকে এই অভিযোগ করে শিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্যের’ ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম।
রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘যখন নির্বাচন শুরু হয়, তখন থেকে আমাদের এখানে সুন্দর একটি পরিবেশ ছিল। কিন্তু যখন শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করে, তখন থেকে আমাদের ছাত্রদলের ভাইয়েরা ক্যাম্পাসের মেইন গেটের সামনে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। আমরা পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনকে জানাই। পুলিশ প্রশাসন কিছুটা সহযোগিতা করলেও পরবর্তীতে তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এখানে আমাদের যে ভাইয়েরা স্লিপ দিচ্ছিলেন, একাধিক ভাইবোনকে হেনস্তা করা, আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করাসহ ওখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ভোট দেওয়ার পরে বিভাগগুলোতে পরিদর্শনে যাই। ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে গিয়ে দেখি ছাত্রদলের পোলিং এজেন্ট শিক্ষার্থীদের ম্যানিপুলেট করছে ভোট দেওয়ার জন্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভোটের চিরকুট পর্যন্ত তারা কেড়ে নিচ্ছে। একই ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটেছে অন্যান্য বিভাগেও। দর্শন বিভাগে যাওয়ার পরে দেখতে পাই, ওখানে ছাত্রদলের এজেন্টরা তাদের প্যানেল পরিচিতি বই আকারে প্রকাশ করে অন্য কেন্দ্রগুলোর মতো নিয়ে বসে আছে। আমাদের এজেন্ট বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারতে আসে এবং তারা এখানে চিল্লাচিল্লি করে। পরবর্তীতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারির সহযোগিতায় এখান থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’
ছাত্রশিবির সমর্থিত এই ভিপি পদপ্রার্থী আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টসহ আমরা যে ডিপার্টমেন্টে গিয়েছি, সব জায়গায় ছাত্রদল একই ধরনের কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। সব থেকে বড় আপত্তির বিষয় হচ্ছে, ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদলের ক্যাডাররা সিঁড়ির ওপরে তাদের প্যানেল পরিচিতিগুলো নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা যখন প্রশ্ন করিলে তারা আমাদের প্রার্থী এবং আমাদের ভোটারদের ওপরে তেড়ে আসে মারার জন্য। তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে বিরাজমান রয়েছে।’
সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ভোট গণনার সময় তারা এ ধরনের বড় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে এবং বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, ক্যাম্পাসের আশপাশে বিভিন্ন ক্যাডারকে ঘাপটি মেরে রেখেছে ছাত্রদল। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করার সময় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমরা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। এদিকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক দিয়ে ভোটারদের প্রবেশ পথটি পরিণত হয়েছে ছোট ছোট কার্ড ও পোস্টারের স্তুপে।
আজ সরেজমিনে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে এ চিত্র দেখা যায়। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটারদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় প্রচারণার অংশ হিসেবে ছোট কার্ড ও পোস্টার বিতরণ করেন।

জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির প্যালেনকে সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশক্তি সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ফয়সাল মুরাদ এ কথা বলেন।
ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে কালো টাকার বিরুদ্ধে, পেশি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আজ তার প্রমাণ হলো। আজ প্রশাসনের জামাতপন্থী গ্রুপ শিবিরকে এবং বিএনপিপন্থী গ্রুপ ছাত্রদলেকে সহায়তা করছে।’
তিনি আরও অভিযোগ বলেন, ‘ নির্বাচনে যে কালিটি ব্যবহার করা হচ্ছে তা মিশে যাচ্ছে এবং ভোট শেষ হলেও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন ভোটাররা। কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কথা থাকলেও ছাত্রঅধিকার ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের অনেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করছে।’
নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘পোলিং এজেন্ট পরিবর্তন ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেননি। নির্বাচন কমিশনা ও প্রশাসন দলীয় আচরণ করছে। পোলিং এজেন্টের কোনো কার্ড প্রদান করা হয়নি। ২ ঘণ্টা পর লিস্টে নাম থাকালেও আমাদের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

ছাত্রদল ছাত্রঅধিকার সমর্থিত অদম্য ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী একেএম রাকিব।
জবি: ছাত্রদল ছাত্রঅধিকার সমর্থিত অদম্য ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী একেএম রাকিব অভিযোগ করে বলেছেন, ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে একটি নিদিষ্ট দলের প্যানেলের টোকেন নিয়ে প্রার্থীরা ভিতরে প্রবেশ করছে। আমাদের প্যানেলকে টোকেন নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ক্যাম্পাসে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
একেএম রাকিব বলেন, আজকে যখন আমরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি তার কিছুক্ষণ পরেই দেখতে পাই যে একটা নির্দিষ্ট প্যানেলের যেই টোকেন নম্বর ফোল্ডিং, যেখানে প্রত্যেক প্রার্থীর ব্যালট নম্বর আছে এই ব্যালট নম্বর ভেতরে ঢুকছে। এ কথা নির্বাচন কমিশনকে বলা হলে তারা বলে এটা করা যাবে।’
রাকিব বলেন, ‘ওখানে যারা দায়িত্বে আছে তারা শুধু ওই নিদিষ্ট প্যানেলের টোকেন নিয়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। আমাদের টোকেন নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ দায়িত্বে পক্ষপাতিত্ব করছে। নির্বাচন কমিশন এটা অস্বীকার করলে আমরা প্রমাণ দেখালে তারা এটা অনুমতি দেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্তরা এটা ছাড়া অন্য কোনো প্যানেলের টোকেন নিতে দিচ্ছে না। আমাদের কাছে ২/৩টা কেন্দ্র থেকে এমন অভিযোগ এসেছে।’

জবি: ছাত্রদল ছাত্রঅধিকার সমর্থিত অদম্য ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী একেএম রাকিব জানিয়েছেন, আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
তিনি বলেন, আশাকরি সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফল পেতে যাচ্ছি। আমরা আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করতে পারব।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ভিপি পদপ্রার্থী একেএম রাকিব বলেন, আমি সকালে আমার ডিপার্টমেন্ট উদ্ভিদ বিজ্ঞানে ভোট দিয়েছি। আশা করি এখন যে পরিস্থিতি আছে শেষ পর্যন্ত এ পরিস্থিতিতে ভোট গ্রহণ চলবে।