ঢাকা: বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
সোমবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে। বাংলাদেশে কাজ করতে মার্কিন কোম্পানিগুলো অত্যন্ত আগ্রহী বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে এফএসআরইউ সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্বল্প সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
আমদানি নীতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন আমদানি নীতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে কিছু ধারা আরও ব্যবসাবান্ধব করার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি নীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাজার ও অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কৌশলগত সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের পুরনো বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। মন্ত্রী বলেন, সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এসেছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গানভর’-এর সঙ্গে চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক চিফ এঞ্জেলো পালাজ্জেলো উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।