
চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস (২৯)।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের সময় চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস (২৯) মারা গেছেন।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিউটি ম্যানেজার সফিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ গ্রহণ করেছেন।
জাকসু নির্বাচনে ১২টি আবাসিক হলের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। বাকি ৯টি হলে গণনার কাজ এখনও চলমান। সব হলে গণনা শেষ হলে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হবে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য জানান, দুটি টেবিলে একসঙ্গে ভোট গণনা হচ্ছে। ভোরের দিকে কয়েকটি হলে প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত না থাকায় সাময়িকভাবে গণনা বন্ধ ছিল। তবে যেসব হলে এজেন্টরা ছিলেন, সেখানে গণনা অব্যাহত আছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২১টি হলের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে ব্যালট বাক্সগুলো সিনেট ভবনে আনা হয় এবং রাত ১০টার পর গণনা শুরু হয়। সিনেট ভবনে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত থেকে গণনা তদারকি করছেন।
জাকসু নির্বাচনে চলছে ভোট গণনা। সারা রাত ধরে এই ভোট গণনা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ.কে.এম. রাশিদুল আলম বলেন, ‘ভোট গণনা করতে সারা রাত লেগে যাবে। তবে আশা করছি শুক্রবার দুপুরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও জানান, নির্বাচনে প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন।

জাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। মিছিল থেকে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ছাত্রসংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কলাভবনের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। এটি জাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনের সড়ক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্বর পার করে চৌরঙ্গীতে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান। মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান, এজিএস (পুরুষ) প্রার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম প্রমুখ।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এর আগে, সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে ভোটগ্রহণ শেষেও যারা লাইনে ছিলেন, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২১টি হল থেকে ব্যালট বাক্সগুলো সিনেট হলে আনা হয় এবং এরপর ভোট গণনা শুরু হয়।

জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৯১৯ জন। ভোট পড়েছে মোট ৮ হাজার ১৬টি, বা ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সকল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ভোট গণনা চলছে।
এবারের নির্বাচনে ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৮ প্রার্থী। নির্বাচনে বামপন্থী, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের সমর্থিত ৮টি প্যানেল অংশগ্রহণ করে। তবে, কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছে ছাত্রদলসহ প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের চারটি প্যানেল। তারা পুনর্নির্বাচনেরও দাবি করেছে।
ঢাকা: পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ছাত্রদল ভোট বর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ আদিব।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আরিফ উল্লাহ আদিব বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল গুজব ছড়াচ্ছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তারা ভোট বর্জন করেছে। আমাদের দাবি, নিয়মমাফিক গণনা ও ফল প্রকাশ করা হবে।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আরও বলেন, ক্যাম্পাসের চারপাশে ছাত্রদল ও যুবদল জড়ো হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কা করছি।
এদিন সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলে ৫টা পর্যন্ত। এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৭ জন। বিভিন্ন পদে মোট ১৭৮ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমোদন পেয়েছেন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন।

ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বামপন্থি শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্যানেল সম্প্রীতির ঐক্য ফোরাম। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শরণ এহসান বলেন, ‘বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার পর জানানো হয়েছিল প্রার্থীরা কেন্দ্রগুলোতে পোলিং এজেন্ট রাখতে পারবে। কিন্তু সকালে এজেন্টরা কেন্দ্রে গেলে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। নির্বাচনে অনিয়মের শুরু হয়েছে ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের মধ্য দিয়ে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি হলে তাদের পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রশাসন আস্থার কথা বললেও ভোট গ্রহণ চলমান থাকায় এসব আচরণ পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিপন্থি তিন শিক্ষক।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তারা এ ঘোষণা দেন।
এর আগে বিকেল ৪টার কিছু আগে মাওলানা ভাসানী হলের গেস্টরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই নির্বাচন ছিল সাজানো। ভোটার তালিকায় ছবি না থাকা, কেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং একই শিক্ষার্থীর একাধিকবার ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি। এসব অনিয়মের কারণেই তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব। ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বেশকিছু অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা বেশকিছু অসঙ্গতি দেখতে পাচ্ছি। একটি নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের যতটুকু প্রস্তুতি থাকা দরকার তার একটিও নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট থাকার বিষয়ে রাতে মিটিং করেছে। সকালে আমরা কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট পাঠালে দায়িত্বরতরা বলেছেন, এ বিষয়ে তারা জানেন না। এগুলো আগেই সমাধান করা দরকার ছিল।’
তিনি জানান, সকাল ৬টা থেকে ক্যাম্পাসে সাবেকরা অবস্থান করতে পারবেন না। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে ও হলে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের দেখা গেছে। তার অভিযোগ, এই সাবেক শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ম্যানোপুলেট করছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে জানানোর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
উল্লেখ্য, এরই মধ্যে ভোটে অসঙ্গতি ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।