ঢাকা: সারাবাংলা ডটনেটে ‘২০ লাখ টাকায় পরীক্ষা ডিভাইসে’ অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ এবং সারাদেশে ডিভাইসসহ শতাধিক গ্রেফতার দেখিয়ে অবিলম্বে পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরীক্ষার্থীরা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সামনে মানববন্ধন করেন তারা।
এ সময় মানববন্ধনকারীরা বলেন, ‘সারাদেশেই ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তবে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বেশি হয়েছে। ডিভাইসসহ শতাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হলেও জানা মতে আরও শত শত পরীক্ষার্থী ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়েছে। তারা ধরা পড়েনি।’
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডিভাইসের মাধ্যমে যারা পরীক্ষা দিয়েছে তারা ৯০ নম্বরের মধ্যে ৯০ নম্বরই উত্তর দিয়েছে। অথচ যারা সারাবছর দিন রাত পড়াশুনা করেছে তারা ৯০ উত্তর করতে পারেনি। তাহলে দেখা যাচ্ছে, যারা ৯০ এ ৯০ পাবে কেবল তাদের রোল নম্বরই রেজাল্টে আসবে। এসব বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধনে আসা রংপুরের পরীক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আমি ৮৭ উত্তর করেছি। তারপরেও রোল আসবে না। কারণ ৯০ পাওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি হবে। এরপর ৮৯ যারা পাবে তাদের রোল আসবে। কিন্তু ডিভাইসের মাধ্যমে বা প্রশ্নপত্র ফাঁস না হলে আমার রোল নম্বর রেজাল্টে ঠিক আসার সম্ভাবনা ছিল। আমার মতো এ রকম বহু পরীক্ষার্থী আছে যারা সারাবছর পরেও ৮০ উত্তর করতে পারেনি। অথচ যারা একটি বইও পড়েনি তারাই ৯০ উত্তর করে বসে আছে। এসব বন্ধ করতে হবে। পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নিতে হবে। সেজন্য আমরা কিছু দাবি পেশ করছি।’
রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সামনে মানববন্ধনে রাজশাহীর পরীক্ষার্থী আহসানুল কবির কিছু দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো-
১। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া;
২। সব চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নেওয়া এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার বসানো;
৩। স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে তাদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা নেওয়া এবং একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা না নেওয়া;
৪। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতীতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব না দেওয়া;
৫। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা।
নওগাঁর পরীক্ষা শাহরিয়ার মাসুম বলেন, ‘ডিভাইস পার্টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা মাঠে এবং অভিযান শুরু করে। পরীক্ষার আগে ও পরীক্ষার দিন বিভিন্ন জেলায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।’
এ সময় পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘প্রশ্নফাঁস চলবে না, চলবে না’, ‘প্রশ্নফাঁস হটাও, শিক্ষা বাঁচাও’, ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন, ডিপিই জবাব চাই’, ‘পরিশ্রমের মর্যাদা নেই’—এ ধরনের লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে) একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করেছেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।