নোয়াখালী: নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী হাউজিং এলাকায় ই.এন.টি হাসপাতাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসার কারণে রিংকি আক্তার (২০) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাকের পলিপাস ও গলার টনসিলের অপারেশন একসঙ্গে করায় জটিলতা দেখা দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রোগীর মৃত্যু হলে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে ভিড় করেন। এসময় হাসপাতালের মালিক ও নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. মজিবুল হকসহ কর্মচারীরা দ্রুত পালিয়ে যান।
রিংকি আক্তার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে।
রিংকির বড় ভাই মো. শাকিল বলেন, ‘কয়েকদিন আগে রিংকির গলায় ব্যথা হলে আমরা ঢাকায় ডাক্তার দেখাই। সেখানে বলা হয়, তার টনসিল ও নাকের পলিপাসে প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যা আছে, বড় ধরনের জটিলতা নয়। পরে মাইজদীতে ডা. মজিবুল হকের কাছে এলে তিনি জানান দুটো সমস্যার জন্য ছোট অপারেশন লাগবে।’
তিনি জানান, গত ২৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় রোগীর টনসিল ও পলিপাস অপারেশন করা হয়। পরদিন তাড়াহুড়ো করে রিলিজও দেওয়া হয়। বাড়ি নেওয়ার পর রিংকির শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। ডাক্তারকে জানালে তিনি বলেন ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শনিবার সকালে গলা দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়তে শুরু করলে আমরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে আনি। তখন তারা জানান, রিংকি আর বেঁচে নেই।
এ ঘটনার পর চিকিৎসক মজিবুল হক ও হাসপাতালের অন্যরা পালিয়ে যান বলে দাবি পরিবারের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত চিকিৎসক মজিবুল হকের ফোনেও একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সুধারাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লন্ডন চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রাথমিকভাবে তথ্য নেওয়া হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’