বগুড়া: বগুড়া জেলা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা শর্টগানের ৪টি গুলিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া সদর থানায় প্রেস ব্রিফিং এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা মঞ্জুর এসব তথ্য জানান। এর আগে, বুধবার রাতে নারায়নগঞ্জ এলাকার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসিামিরা হলেন- নোয়াখালি জেলার ফকিরহাট এলাকার ইউসুফ (৪৮) ও কুমিল্লা জেলার লাঙ্গলকোট এলাকার মোদাচ্ছের (২৩)।
জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর রাত প্রায় ২টার সময় বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকার এমআর ব্রাদার্স ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ ও বগুড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন কার্যালয়ে ডাকাতদল হানা দেয়। ডাকাতদল বগুড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও এমআর ব্রাদার্স ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে কর্মরত গার্ড কর্মচারীদেরকে হাত, পা, মুখ বেধে মারপিট করে অস্ত্রেরমুখে নগদ ৪৩ হাজার ৩৮২ টাকা, তুর্কীর তৈরি একটি বারবোর শটগান, শর্টগানের ১০ রাউন্ড কার্তুজ (লেডবল) লুট করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে নৈশ্যকালিন টহল পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাত দল কৌশলে ট্রাকে করে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ সদস্যরা ট্রাকের পেছনে ধাওয়া করে। পরে ট্রাকটি বগুড়া শহরের বনানী মোড় হয়ে মহাস্থানগড়ের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। পুলিশ পিছু ধাওয়া করে বগুড়া-রংপুর সড়কের বাঘোপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের গাড়িতে হামলা করে ডাকাতদল। এ সময় পুলিশ সদস্যরা শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে ট্রাক থামিয়ে ডাকাতদল মহাসড়কের পাশের জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়। ডাকাতদলের ফেলে যাওয়া ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ৩টি মোবাইল ফোন, চার রাউন্ড গুলি, তালা কাটার যন্ত্র, গ্যাস কাটারসহ সিলিন্ডার, চারটি ধারালো হাসুয়া, রড ৩টি, একটি প্লাস উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ওই দিনই মো. শাহ আলম (৫২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন ডাকাতের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানার মামলা দায়ের করেন।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিরা আন্তর্জাতিক ডাকাত দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’