Friday 09 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৩ দফা দাবিতে কুয়েট শিক্ষার্থী জাহিদুরের আলটিমেটাম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৬

কুয়েট শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান তিন দফা দাবিতে কুয়েট প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়েছেন।

খুলনা: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান তিন দফা দাবিতে কুয়েট প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। দাবি মানা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কুয়েট কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন জাহিদুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কুয়েট ছাত্রলীগের হাতে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এ ঘটনায় তৎকালীন কুয়েট প্রশাসন তার পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো প্রশাসন নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৫২ দিন কারাভোগের পর ২ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কারাগার থেকে মুক্তির পর একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার আবেদন জানালেও কোনো আশ্বাস পাননি। ফলে তার একাডেমিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রায় দুই বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি।

লিখিত বক্তব্যে জাহিদুর রহমান জানান, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে ঘটনার বিচার চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কুয়েট প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাঁচ মাস তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি ১৩ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, যার মধ্যে ১০ জনের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৎকালীন উপাচার্য, ছাত্র কল্যাণ পরিচালক, সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট ও সহকারী হল প্রভোস্টসহ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী কুয়েটের সিকিউরিটি ইনচার্জ এখনও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জাহিদুর রহমান আরও বলেন, প্রশাসন তাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে মামলা করার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেও তাকে কপি দেওয়া হয়নি। আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও প্রশাসন কোনো জবাব দেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন—
১) তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ,
২) ঘটনায় জড়িত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ,
৩) তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও ভবিষ্যৎ একাডেমিক জীবন নির্বিঘ্ন করার নিশ্চয়তা।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে অথবা উচ্চ আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর