Saturday 10 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ
রংপুরে জালিয়াতি চক্রের ৫ সদস্য আটক, বিপুল ডিভাইস উদ্ধার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:০১

রংপুর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা (২০২৫) চলাকালে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির চক্রের নারীসহ ৫ সদস্যকে আটক করেছে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এসব ডিজিটাল সামগ্রী চক্রটির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হতো।

আটককৃতরা হলেন- রংপুরের মিঠাপুকুরের ফকিরেরহাট এলাকার মৃত রফিক মন্ডলের ছেলে সারোয়ার ইসলাম (৩০), পীরগাছার দেওতি এলাকার মৃত চানমিয়ার ছেলে আল আমিন মোহাম্মদ আহাদ (৩৪), পীরগঞ্জের জাহাঙ্গীরাবাদের মরহুম খাজামিয়ার ছেলে মেজবাহ হামিদুল্লাহ প্রধান (২৯), কাদিরাবাদের এনামুল হকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রকি (২৮) এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার সাইকোলা গ্রামের মৃত বারেক আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বিথী (২৬)।

বিজ্ঞাপন

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আটকদের কাছ থেকে ১৫টি ডিজিটাল ডিভাইস, ৫টি স্মার্ট ফোন, ২টি ফিচার ফোন, ১৩টি সিম কার্ড, ৭টি ব্লুটুথ এয়ারপড, ১৯টি এয়ারপডের ব্যাটারি, এয়ারপড প্লেসমেন্টের ফরসেপ ১টি, ১০০ টাকার ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৬টি, স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক ২টি এবং ২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে ডিজিটাল ডিভাইস (বিশেষ করে কানের ভেতরে লুকানো এয়ারপড) ব্যবহার করে বাইরে থেকে প্রশ্নের সমাধান সরবরাহ করতেন। চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সূত্রও পাওয়া গেছে, যা থেকে আরও সদস্যদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

এই আটকের পটভূমিতে উল্লেখ্য, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সারাবাংলা ডটনেটে ‘ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: ২০ লাখ টাকায় চাকরির চুক্তি, পরীক্ষা ডিভাইসে! শিরোনামে বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ক্যাপ্টেন ব্যাকোলজি মোড় থেকে চক্রের আরও দুই সদস্যকে (গোলাম কিবরিয়া ও সুমন চন্দ্র) আটক করা হয়, যাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ফোন জব্দ হয়।

সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির নির্মুলে সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রতি কেন্দ্রে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি ও কোনো কোনো জায়গায় ১৪৪ ধারা জারিও করা হয়।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, সারাবাংলার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর পুলিশের তৎপরতায় চক্রগুলোর অপচেষ্টা অনেকাংশে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলমান এবং চক্রের মূল হোতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর