Sunday 11 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘ইবরাহিম (আ.)-এর কুরবানির সঙ্গে তুলনা’, ক্ষমা চাইলেন জামায়াত নেতা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৮ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৩

জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান।

রংপুর: জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এটিএম আজম খান হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর কুরবানির ঘটনার সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের তুলনা করে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি এটিকে “স্লিপ অব টাং” (জিহ্বার স্খলন) বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এ ধরনের তুলনা দেওয়া তার উদ্দেশ্য ছিল না এবং তা তার বিশ্বাস ও আকিদার পরিপন্থী।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এটিএম আজম খান তার ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

এটিএম আজম খান লিখেছেন, ‘সম্প্রতি পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় বক্তব্যের সময় আমার একটি উক্তি নিয়ে অনেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ওই সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আমি দলের এক ঊর্ধ্বতন নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করার সময় একটি অনভিপ্রেত ও অসতর্ক শব্দচয়ন ব্যবহার করেছি, যেখানে কুরবানি সম্পর্কিত একটি তুলনা উপস্থাপিত হয়। বিষয়টি আমার ‘স্লিপ অব টাং’ থেকে হয়েছে, যা কোনোভাবেই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি লিখেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর কুরবানির ঘটনা ইসলামের এক অতুলনীয় আদর্শ ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত। এর সঙ্গে তুলনামূলক কোনো বক্তব্য দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয় এবং তা আমার বিশ্বাস ও আকিদার পরিপন্থী।’

এ টি এম আজম খান তার বিবৃতিতে লিখেছেন, ‘ওই বক্তব্যের কারণে আমি সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং যদি কোনো ভাই-বোন বা শুভানুধ্যায়ী কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদের সবার কাছেও আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে বক্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।’

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এটিএম আজম খান এই বক্তব্য দেন। ওই সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের একটি ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়েছে যে তাকে “কোরবানি” দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি প্রশ্ন করেন এটা কি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির মতো? উত্তরে বলা হয়, “এর চেয়েও বড়”। ব্যাখ্যায় বলা হয়, ইবরাহিম (আ.) শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করেছিলেন, যার ফলে দুম্বা কোরবানি হয়েছে; কিন্তু আজম খানের কোরবানি হচ্ছে “পীরগাছা-কাউনিয়ার লাখ লাখ নারী-পুরুষের কোরবানি”।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে এটিকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অসম্মানজনক এবং অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। কয়েকজন নেটিজেন লিখেছেন, “ধর্মীয় আবেগ নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা” এবং “এ ধরনের তুলনা করার স্পর্ধা কোথা থেকে আসে?”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য জামায়াতের ধর্মীয় ভোটব্যাংকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে এবং জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটিএম আজম খানের এই ক্ষমাপ্রার্থনা ও স্পষ্টীকরণ বিতর্ক কিছুটা কমাতে পারে বলে অনেকে আশা করছেন।

এটিএম আজম খান রংপুর-৪ আসনে জামায়াতের প্রাথমিক প্রার্থী ছিলেন। জামায়াত-এনসিপি জোটের সমঝোতায় তিনি আসনটি ছেড়ে দিয়ে এনসিপির আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর