সিলেট: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের সকলেই ব্যবসায়ী। তাদের প্রত্যেকের স্ত্রীরা গৃহিণী এবং সম্পদ ও আয় শূন্য দেখা গেছে।
প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিলেট–১ আসনে প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান তার বার্ষিক দেখিয়েছেন আয় ২০ লাখ ৫২ হাজার ২৮০ টাকা। তার স্ত্রী হামিদা রহমান পেশায় একজন গৃহিণী। স্ত্রীর কোনো আয় ও সম্পদ নেই। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা। হাবিবুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতায় কামিল (মাস্টার্স)। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো চলমান মামলা নেই, তবে একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
সিলেট–২ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানও পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো চলমান মামলা নেই, তবে একটি মামলা ছিল তা নিষ্পত্তি হয়েছে। তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ৬১১ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৩৭৮ টাকা। তার নামে কোনো ঋণ নেই।
হান্নানের শিক্ষাগত যোগ্যতায় এম কম ডিগ্রিধারী। তার স্ত্রী মাহফুজা হান্নান পেশায় গৃহিণী। তবে পূর্বে তিনি শিক্ষকতায় জড়িত ছিলেন।
সিলেট–৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল (মাস্টার্স)। তিনিও পেশায় ব্যবসায়ী। ৫ সন্তানের জনক লোকমান আহমদের স্ত্রী হাজেরা গৃহিণী।
লোকমানের বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি মামলা চলমান ও ইতোমধ্যেই ১০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২১ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা। সব মিলিয়ে তিনি ৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক। হলফনামায় ১০ ভরি সোনা রয়েছে জানিয়ে অধিগ্রহণকালে এর মূল্য ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন লোকমান।
সিলেট–৪ আসনের প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন শিক্ষাগত যোগ্যতায় এমএসএস ডিগ্রিধারী। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো চলমান মামলা নেই, তবে সাতটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ একটি কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৮৭৯ টাকা। জয়নালের স্ত্রী রোজিনা বেগম পেশায় গৃহিণী। তার কোনো আয় ও সম্পদ নেই।
সিলেট–৫ আসনের প্রার্থী হাফিজ মো. আনওয়ার হোসাইন খান শিক্ষাগত যোগ্যতায় কামিল (মাস্টার্স)। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো চলমান মামলা নেই, তবে ২২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭০ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭০ টাকা। আনওয়ার হোসাইনের স্ত্রী মাহবুবা বেগম জেসমিনও পেশায় গৃহিণী। তারও কোনো আয় ও সম্পদ নেই।
সিলেট–৬ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন শিক্ষাগত যোগ্যতায় এমএ ডিগ্রিধারী এবং পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি মামলা চলমান এবং ৪৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা এই ছয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ। হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকা এবং ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকা।
সেলিমের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম চৌধুরীও পেশায় গৃহিণী। তারও কোনো আয় ও সম্পদ নেই।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও।