কুমিল্লা: জেলার বুড়িচং উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফাহিমা আক্তার (২৫) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা সদরের জগতপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (২৫) জাহাঙ্গীর আলমের কন্যা এবং দেবিদ্বার উপজেলার ছুটনা গ্রামের জহিরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী এবং চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে ঘরের সামনে শিশুদের ব্যবহৃত প্যাম্পাস ফেলা নিয়ে ফাহিমার সঙ্গে তার চাচাতো ভাই সবুজ ও সাঈদের কথা-কাটাকাটি হয়। ঘটনার কিছু সময় পর ফাহিমা গোসলের উদ্দেশ্যে ঘরে প্রবেশ করলে সবুজ ও সাঈদের নেতৃত্বে শিউলি আক্তার, কবির হোসেন, তাসলিমা, তানিয়া আক্তার, প্রবাসী কুদ্দুসের স্ত্রী পারভীন, রানা, উর্মিসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফাহিমাকে গুরুতর আহত করে। তার চিৎকারে চাচা আবু তাহের, চাচাতো ভাই ইকবাল হোসেন ও বোনের জামাই শাহজালাল এগিয়ে এলে তারাও হামলার শিকার হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবার জানায়, ফাহিমার দুইটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের নানী আসমা আক্তার রেখাসহ স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।’