পিরোজপুর: জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষ্যে পিরোজপুর জেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক স্তরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইন্দুরকানী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মেহেউদ্দিন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক মো. আরিফুজ্জামান।
শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পেশাগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে প্রশংসিত হয়েছেন।
শিক্ষাজীবনে মো. আরিফুজ্জামান দেশের অন্যতম খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নটর ডেম কলেজের ছাত্র ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শিক্ষা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে শিক্ষা বিস্তারের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে তিনি স্বেচ্ছায় সেই চাকরি ত্যাগ করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন।
বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানের পর তিনি বিজ্ঞান শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করতে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি বিজ্ঞান ক্লাব পরিচালনা করে আসছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ ও সুকুমার বৃত্তির বিকাশে তিনি বিদ্যালয়ে একটি বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনি সেসিপ (SESEP) প্রকল্পের অধীনে গণিত বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন পেশাগত উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছেন।
শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে আরও বোধগম্য ও আধুনিক করতে তিনি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান করেন। শিক্ষক বাতায়ন থেকে কনটেন্ট ব্যবহারের পাশাপাশি নিজ হাতে প্রস্তুতকৃত মানসম্মত শিক্ষণীয় কনটেন্ট নিয়মিত আপলোড করছেন। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি মুক্তপাঠ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একাধিক কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতায় সক্রিয় এই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছেন। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা–২০২৩-এ তার ব্যক্তিগত উদ্ভাবনী ধারণার জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।
শিক্ষকতার পাশাপাশি মো. আরিফুজ্জামান বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক।
শিক্ষা ক্ষেত্রে তার এই অর্জনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে।