Wednesday 14 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঠাকুরগাঁওয়ে খাদ্যগুদামে অভিযান, সাড়ে ৩ টন চাল জব্দ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৪

খাদ্যগুদামে অভিযান চলাকালে মালিকবিহীন চাল জব্দ

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলএসডি খাদ্যগুদামে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেখানে সাড়ে তিন টনের বেশি চাল জব্দ করা হয়েছে, যার মালিকানা নিশ্চিত করতে পারেননি গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারী) সকালে দুদকের ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজমির শরিফ মারজী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুদকের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আমন মৌসুমে সরকার চিকন চাল সংগ্রহের নির্দেশ দিলেও রুহিয়া গুদামে মোটা ও নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয়েছে- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংগ্রহকৃত চালের মান যাচাইয়ের জন্য ১৪টি খামাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিলগালা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দুদক আরও জানায়, ৩ হাজার ৪৫০ কেজি চালের কোনো হিসাব নেই। পরিদর্শনের সময় গুদামের সাত নাম্বার ঘরের একটি খামালে ৩ হাজার ৪৫০ কেজি চাল পাওয়া যায়, যার কোনো হিসাব-নিকাশ বা রেকর্ড গুদামে ছিল না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা চাল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন মিল মালিক ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় কৃষক রমজান ও আপেল অভিযোগ করে বলেন- ধান বিক্রি করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, অথচ সরকারি গুদামেই মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ চাল পাওয়া যায়। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

রুহিয়ার বাসিন্দারা জানান, সরকারি খাদ্যগুদাম মানুষের আস্থার জায়গা। সেখানে হিসাব ছাড়া চাল মজুত থাকা বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

দুদকের সহকারী পরিচালক আজমির শরিফ মারজী জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে এবং চালের নমুনা ল্যাবে পাঠিয়ে মান যাচাই করা হবে। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও রুহিয়া গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিপ্রা শর্মার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক শাহ জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে চাল মজুত বা স্থানান্তরের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর