পাবনা: পাবনায় বিষ প্রয়োগে তিনটি কুকুর হত্যার ঘটনায় কুকুর মালিক থানায় মামলা করতে গেলেও, পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কুকুর মালিকের। তবে পুলিশের দাবি, মামলার শর্তাবলি পূরণ না হওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পাবনা পৌর শহরের কাচারীপাড়ার কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, পাবনা সদর থানার অফিসার ইন চার্য (ওসি) দুলাল হোসেন দাবি করেছেন, মামলার শর্তাবলি পূরণ না হওয়ায় মামলা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা শর্তপূরণ করে আসলেই মামলা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে একজন পুলিশ অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কুকুর হত্যাকারীকে শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কোনো এক সময়ে খাদ্যে বিষপ্রয়োগ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তিনটি কুকুর হত্যা করে। কুকুরের মালিক হারুনর রশীদ। তিনি রাজশাহী বিভাগীয় জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও কাচারীপাড়া মহল্লার মৃত হাতেম আলী বিশ্বাসের ছেলে।
থানায় লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি সকালে হারুনর রশীদ তার পোষা তিনটি কুকুরের কান্নার আওয়াজ পান। দ্রুত বাসার সামনে এসে দেখতে পান তার পোষা তিনটি কুকুর মাটিতে শুয়ে ছটফট করছে। কুকুরের এমন অবস্থা দেখে স্থানীয় পশু চিকিৎসক এসএ মামুন কে ঘটনাস্থলে আনা হয়৷ পশু চিকিৎসক কুকুরগুলোর শারীরিক লক্ষণ ও অবস্থা দেখে নিশ্চিত হন, এদের বিষপ্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর চিকিৎসক কুকুরগুলোর বিষক্রিয়া মুক্ত করতে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আটটায় ২টি কুকুর মারা যায়। একই দিন দুপুর দেড়টার দিকে আরেকটি কুকুর মারা যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কুকুর মালিক হারুনর রশীদ বলেন, কুকুর বলেই আমি কুকুরদের সেভাবে দেখি না। ওরা ছিল আমার আদরের। আমাকে দেখলেই ওরা ছুটে আসতো, ওদের দেখে আমার ভালো লাগতো।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পশু প্রাণী নিয়ে কাজ করছি। থানা মামলা না নেওয়ায় হতাশ হয়েছি। আমরা চাই কুকুর হত্যাকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
প্রতিবেশী নাসিমা খাতুন ও ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কুকুর ভক্ত কমই দেখতে পাই। আমরা পথে ঘাটে কুকুর বিড়াল দেখলে বিরক্ত হই। কিন্তু যেখানে সেখানে কুকুর বা বিড়াল দেখলে কাছে ডেকে ছোট্ট শিশুদের মতো আদর বুলিয়ে দেন কুকুর প্রেমী হারুন। পোষা বা পথ কুকুর বিড়ালদের আদর যত্নের কমতি নেই তার কাছে।
তারা বলেন, কুকুরগুলো হারুন পথ চললে তার পিছু পিছু থাকতো। দেখতে ভালোই লাগতো। কারণ মানুষ পোষ মানে না অনেক সময়। কিন্তু পশু প্রাণী যে পোষ মানে সেটা হারুন বা তার কুকুরগুলো উদাহরণ।
হারুনর রশিদের ঘনিষ্ঠজন রাকিবুজ্জামান সাদ বলেন, মানুষ দিনদিন নির্মম হয়ে যাচ্ছে। ঈশ্বরদীতে আলোচিত ৮ টি কুকুর ছানা হত্যা ও পাবিপ্রবিতে কুকুর হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পাবনা শহরে এক সাথে পোষা তিনটি কুকুর হত্যা, সত্যিই কষ্টদায়ক। আমিও চাই মানুষের পরিবর্তন আসুক আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে।