সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী কয়ছর এম আহমদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার প্রমাণ না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিলের আবেদন খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে আসনটিতে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি মনোনিত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্ধারিত আপিল শুনানিতে এ ঘোষণা দেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এর আগে, গত ৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনে ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী কয়ছর এম আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এসময় কয়ছর এম আহমদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ তুলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন ও জামায়াত মনোনিত প্রার্থী অ্যাড. ইয়াসিন খাঁন। তবে যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন কয়ছর এম আহমদ। তবে যুক্তরাজ্যে কখনই নাগরিকত্ব নেননি বলে জানান ওই বিএনপি প্রার্থী।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালের সময় তথ্য-প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের আপিলের নির্দেশ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্দেশনা অনুযায়ী, কয়ছর আহমদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ তুলে ইসিতে পৃথকভাবে আপিল করেন আনোয়ার হোসেন ও ইয়াসিন খাঁন। তবে আজ আপিল শুনানিতে কয়ছর এম আহমদের দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ না পাওয়ায় এসংক্রান্ত আপিল খারিজ করে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে ৩ জানুয়ারী এবি পার্টি মনোনিত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের বিরুদ্ধে আয়কর পরিশোধ না করার অভিযোগে মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন সৈয়দ তালহা আলম। আজকের আপিল শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হলে কমিশন সন্তুষ্ট হয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
আপিলের রায় ঘোষণার ফলে কয়ছর এম আহমদ ও সৈয়দ তালহা আলমের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথে আর কোনো বাধা রইল না।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম বলেন, আমার আয়কর পরিশোধ করা হয়নি এই অভিযোগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন। কিন্তু আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করি। নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট হয়ে আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন। সব বাঁধা পেরিয়ে ভোটের মাঠে আমি ছুটে চলেছি। ইনশাআল্লাহ বিজয় আসবেই।