খুলনা: খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহা হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করেছে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিক মানিক সাহার ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা এ দাবি জানান।
কেউজের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানিক সাহা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থযোগানদাতা ও গডফাদারদের চিহ্নিত করতে পারেনি প্রশাসন। মামলার রায়ে পরিবারসহ গোটা সাংবাদিক সমাজ ক্ষুদ্ধ ও হতাশ।’
নেতারা আরও বলেন, ‘২২ বছর পার হয়ে গেল, অথচ কী কারণে মানিক সাহাকে হত্যা করা হলো তা আজও অজানা থেকে গেল। প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেল। মানিক সাহা হত্যার নেপথ্যের কারণ খুলনাবাসী জানতে চায়। কাজেই এ হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত করে আসল ঘটনা জনসম্মুখে আনতে হবে।’
কেইউজের সহ-সভাপতি কাজী শামিম আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যুগ্ম-মহাসচিব হেদায়েত হোসেন মোল্লা ও সদস্য কৌশিক দে বাপী, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক মো. এনামুল হক, কেইউজের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা মিজানুর রহমান বাবু, নিহত সাংবাদিক মানিক সাহার ছোট ভাই ও শিক্ষক নেতা প্রদীপ সাহা।
কেইউজের সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্রনাথ সেনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উদীচী খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক খৈয়ম মন্ডল মিঠু, কমরেড রতন সেন পাবলিক লাইব্রেরির সদস্য প্রকৌশলী জাফর ইকবাল, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাহিদুল আসলাম, কেউজের প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিলন হোসেন, দফতর সম্পাদক সাগর সরকার, আলমগীর হান্নান, কামরুল আহসান প্রমুখ। সভা শেষে খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে অবস্থিত শহিদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের অদূরে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নৃশংসভাবে নিহত হন সাংবাদিক মানিক সাহা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৈনিক সংবাদ ও নিউএজ পত্রিকার খুলনার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ইটিভি প্রতিনিধি ও বিবিসি বাংলার খণ্ডকালীন সংবাদদাতা ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন মানিক সাহা।