চট্টগ্রাম ব্যুরো: সরকার বিশেষ কোনো ভোটের কথা না বলে সার্বিকভাবে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবে, এমন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি একথা বলেন।

এর আগে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী অ্যাকাডেমি আয়োজিত শিশু কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। প্রখ্যাত সুফীসাধক সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ ভোট দেওয়ার জন্য। কোনো বিশেষ কারণে ভোট দেওয়ার কথা সরকারের বলা উচিত না। সরকারের লোকজনের বলা উচিত না। সরকারের উচিত জনগণকে বলা, ভোট দেওয়ার জন্য।’
‘ভোট বলতে, সব ব্যাপারে ভোট। কোন বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেবে, কথা বলবে আবার একটাকে বাইরে রাখবে, এ ধরনের কথাবার্তা ভালো না। মানুষের মনে বিভিন্ন সন্দেহের উদ্রেক করে এ ধরণের কথাবার্তা কেউ বললে।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সরকারকে বলব, ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে আপনারা উৎসাহিত করুন। সার্বিকভাবে সব ভোটের কথা বলতে হবে। কোনো বিশেষ ভোটের কথা বলবেন আবার অন্য ভোটের, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে ভোট বিভিন্ন দলকে যে ভোট দিবে এটাই তো আসল ভোট, তাই না ! ’
‘সেই কথা না বলে, খালি এক ভোটের কথা বলবেন আরেক ভোটের কথা বলবেন না। আমরা সব ভোটের কথা বলতে বলতেছি। সার্বিকভাবে জনগণকে বলতে হবে, আপনার ভোট প্রয়োগ করুন। এটাই সরকারের কাজ উৎসাহিত করা। কোন বিশেষ ভোটের কথা কিংবা আরেকটা বাদ দিয়ে তাদের মন্তব্য এগুলো জনগণ খুব ভালো ভাবে নিচ্ছে না।’
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের না থাকা বিষয়ে জানতে চাইলে আমীর খসরু বলেন, ‘সেটাতে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নাই। তাদের জোটের মধ্যে কী হবে, না হবে সেটার উত্তর তো তারা দিতে পারবে। এই উত্তর তো আমরা দিতে পারব না। তাদের জোটের মধ্যে কি হচ্ছে, না হচ্ছে এ বিষয়ে আমাদের কোন মতামতও নাই। এ ব্যাপারে মতামত দেওয়ার আমাদের কোনো ইচ্ছাও নাই।
এর আগে, সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু বলেন, ‘দেশকে গড়তে হলে শিশুদের নিয়ে চিন্তা করা দরকার। আপনার সন্তান ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ যাই হোক না কেন, আগে তাকে একজন সৎ ও ভালো মানুষ হতে হবে। শিশু-কিশোরদের উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতাকে বের করে আনতে বড়দের ভূমিকা রাখতে হবে।’
শিশু-কিশোর সমাবেশ উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক এইচ এম রাশেদ খানের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, রাজনীতিক ইসরাফিল খসরু এবং শাহানশাহ হযরত জিয়াউল হক মাউজভাণ্ডারী ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর।
সমাবেশের ট্রাস্টের প্রকাশনা ‘মাঘ উৎসব’র মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা।