নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি মসজিদের ভেতরে জামায়াতে ইসলামির এক নেতার ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করছে, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; মসজিদকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়নের পাঙ্গা চৌপতি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন হাসান আলী (২৭)। তিনি মেলাপাঙ্গা গ্রামের মো. আলম হোসেনের ছেলে। হাসান আলী ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত নীলফামারী শহর শাখার সাবেক স্কুল সম্পাদক এবং জামায়াতে ইসলামীর পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়নের বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে যুক্ত করে গোপনে পাঙ্গা চৌপতি জামে মসজিদের সভাপতি নির্বাচন করা হয়। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হুমকি দেন। সর্বশেষ জুমার নামাজের সময় এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় হাসান আলীর ওপর হামলা চালানো হয়।’
আহত হাসান আলীর বন্ধু রেজোয়ান কবীর সবুজ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত জুলাইযোদ্ধা হাসানের ওপর এ হামলা আমরা মেনে নেব না। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একটি মিছিলে সামনের সারিতে থাকার সময় তার শরীরে ১৩০টির বেশি রাবার বুলেট লাগে। এখনও শরীরে বহু রাবার বুলেট রয়ে গেছে। অসুস্থ অবস্থার কথা জেনেও মসজিদের ভেতরে তাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
হাসান আলী তার ফেসবুক পোস্টে হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করে দাবি করেন, অভিযুক্তরা সবাই পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
নিজের বক্তব্যে হাসান আলী জানান, ‘পাঙ্গা চৌপতি জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছে এবং মসজিদের আয় কমে যাচ্ছে। শুক্রবার নামাজের পর এসব বিষয়ে কথা বলতেই মুসল্লিদের সামনে আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গলা চেপে ধরা হয় এবং পা ও মাথায় আঘাত করা হয়।’ তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সুস্থ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘এ ঘটনায় রাজনৈতিক কোনো বিষয় নেই। মসজিদে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ থাকেন। এখানে কমিটিতেও সব দলের লোকজন রয়েছেন। হাসান বয়সে অনেকের ছোট। তার কিছু কথা একটি পক্ষের পছন্দ হয়নি, সেখান থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়ে এ ঘটনা ঘটে।’
এ বিষয়ে ডোমার থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।’