Saturday 17 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

ডি‌স্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:৪৫ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:৫৯

সিলেট: অন্তঃসত্ত্বা রোগীর চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারী চিকিসৎকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে হামলার ঘটনার পর থেকে নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। তবে সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে মিড লেভেলের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্টাফরা মিলে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

হামলার ঘটনা তদন্তে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।

আটকরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং ছাতক থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।

রোগী স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্য রাতে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। ওই নারীর পেটে ব্যাথা অনুভব হলে চিকিৎসককে দ্রুত চিকিৎসা দিতে বলেন, কিন্তু ইন্টার্ন চিকিৎসক তার সময় শেষ বলে চিকিৎসা করতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং জোরাজুরির এক পর্যায়ে রাজি হলে ইন্টার্নি চিকিৎসক রোগীকে আগে নার্সের কাছে অ্যান্ট্রি করতে বলেন।

এসময় রোগীর পিরিয়ড ব্যাথা শুরু হলে স্বজনরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে বলেন কিন্তু ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যান্ট্রি ছাড়া চিকিৎসা করতে আবারও অপরাগত প্রকাশ করেন। এতে রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করে উভয় পক্ষের হাতাহাতি শুরু হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়।

খবর পেয়ে হাসপাতালের অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফরা জড়ো হয়ে রোগীর স্বজনদের একটি রুমের মধ্যে আটকে রেখে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নারী চিকিৎসকসহ অন্তত ৫জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মধ্যরাতে হাসপাতালে কর্মরত একজন নারী চিকিৎসকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেয় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

কর্মবিরতি শুরুর পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

বৈঠক বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছি। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ এসব দাবি সমাধান হলে আমরা যে কোনো সময় কাজে ফিরে যেতে প্রস্তুত।

আন্দোলনে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসক মার্জিয়া আলম বলেন, ‘দায়িত্বরত চিকিৎসককে সেবা দিতে হলে অনেক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে হাসপাতালের। রোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন না। আমাদের নারী চিকিৎসককে হেনেস্তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা রাত থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।’ তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।’

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।

ইন্টার্ন চিকিৎকরা ধর্মঘটে থাকলেও হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের মিড লেভেলের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে তর্ক এবং মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল হাসপাতালে যায়। হামলার ঘটনায় কয়েকজন আটক আছেন। হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর আছে।’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটেছে তা একেবারেই ন্যক্কারজনক। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে ঘটনার সময় চিকিৎসকের দায়িত্বে গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর