রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১-৯ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে অষ্টম দিনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাপার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আনন্দে মেতে ওঠেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুকরিয়া জানিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব (বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য) উল্লেখের কারণে গত ১ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করেন। এরপর তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল দেন। প্রথম দফায় পুনরায় বাতিল হলেও অষ্টম আপিল শুনানিতে (১৭ জানুয়ারি) কমিশন মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করে।
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির বলেন, “মঞ্জুম আলী আমাদের হেভিওয়েট প্রার্থী। হলফনামায় সামান্য ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন আজ সেটি বৈধ করেছে। আমরা কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আগামীতে সকল দলের জন্য নির্বাচনী মাঠ ‘সমতল’ রাখার দাবি জানাই।”
ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী যুক্তরাজ্য প্রবাসী এবং একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি লাইম হাউস আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ইউনিভার্সিটি ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ড শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। দ্বাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে রংপুর-১-এ মনোনয়ন পান। তিনি স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদিরের বড় ভাই। নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর একক বাংলাদেশী নাগরিকত্ব থাকতে হবে। দ্বৈত নাগরিকত্বের অস্পষ্টতায় বাতিল হয়েছিল, যা সংবিধানের ৬৬ ধারা লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, ৩০০ আসনে ২৫৬৮ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৩টি বাতিল হয়েছে। আপিল শুনানিতে (১০-১৮ জানুয়ারি) ২৭৭টি মঞ্জুর হয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় পার্টির ২৬টি। রংপুর-১-এ মঞ্জুম আলীর মতো দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক সারাদেশে দেখা দিয়েছে। হাইকোর্টে জুলাই ঐক্যের রিটে জাপাসহ ‘স্বৈরাচারের দোসর’ প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবি উঠেছে।
তিস্তা নদীবেষ্টিত গঙ্গাচড়া উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন (নারী ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯২, পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩১, তৃতীয় লিঙ্গ ৪ জন)।
বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে, বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতের রায়হান সিরাজী, ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, এনসিপির আল মামুন, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আনাস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মমিনুর রহমান। প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, যা আসনের গণিত বদলে দিতে পারে।