সিলেট: চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় খাদে পড়ে থাকা হাতিকে অবশেষে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা পর রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে খাদ থেকে হাতিটিকে উদ্ধার করে।
পরে আহত হাতিকে চিকিৎসা দেয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। এরই মধ্যে হাতিটিকে তার মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে হাতিটি দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় একটি খাদে পড়ে যায়। যদিও ট্রেনের সঙ্গে হাতির ধাক্কায় আঘাতের ব্যাপারে নিশ্চিত নয় রেল কর্তৃপক্ষ। মালিকানাধীন এই হাতিটিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া করে কুলাউড়া থেকে সিলেটে আনা হয়েছিল।
রোববার সকালে স্থানীয়রা হাতিটিকে খাদে দেখতে পান। এর পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বন বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৩টার দিকে হাতিটিকে খাদ থেকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার ফলে হাতিটির পেছনের দুই পা জখম হয়েছে। এছাড়া, দীর্ঘক্ষণ খাদের কাদাজলে থাকায় হাতিটি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাণিসম্পদ অধিফতরের কর্মকর্তারা।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োজলি বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান আহমদ বলেন, ‘খাদ থেকে তোলার পর হাতিটি একেবারে নিস্তেজ ছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর এখন নড়াচড়া করছে। আমরা কিছু ওষুধ ও স্যালাইন দিয়েছি। তবে আঘাত লেগে হাতিটির পেছনের দু’টি পায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। পুরো সুস্থ হতে আরও অনেক সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘আঘাতের চিহ্ন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ট্রেনের ধাক্কায়-ই হাতিটি খাদে পড়ে যায়।
সিলেট রেল স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিটি ট্রেনের ধাক্কায়-ই খাদে পড়েছে কি না তা রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত নয়। আমরা এরকম কোনো আলামত পাইনি। ওই এলাকায় রেল লাইনের পাশাপাশি বাস ও ট্রাকের লাইন রয়েছে।’
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাতিটিকে তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, ‘হাতিটিকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর পর এর মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, হাতিটির মালিক মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি সিলেটে একটি বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য হাতিটিকে গত রাতে ভাড়ায় পাঠিয়েছিলেন।