সিলেট: সিলেটে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় আহত সেই হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে হাতিটি মারা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান ও হাতিটির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান আহমদ।
বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, খাদ থেকে উদ্ধারের পর হাতিটিকে আমরা মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছিলাম। কিন্তু হাতিটি গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে ওই এলাকা থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। সেখানেই মারা যায় হাতিটি।’
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান আহমদ বলেন, ‘ট্রেনের ধাক্কায় খাদে পড়ে মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ায় হাতিটির পেছনের অংশ অবশ হয়ে যায়। ফলে প্রাণীটিকে ওঠানোও সম্ভব হয়নি। আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাতিটির চিকিৎসা ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিতে ঢাকা থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকও আসেন। তবে সব চেষ্টা বিফল করে দিয়ে দুপুরে হাতিটি মারা যায়।’
উল্লেখ্য, শনিবার (১৮ জানুয়ারি) মধ্য রাতে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে রেললাইন-সংলগ্ন একটি খাদে পড়ে ছিল হাতিটি। পরে রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের প্রায় ১৮ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় হাতিটি উদ্ধার করে ডাঙায় তোলা হয়। উদ্ধারের পর থেকে হাতিটি সেখানেই পড়ে ছিল।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাতির মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কামরুল ইসলাম। কয়েক দিন আগে হাতিটি সিলেটের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হয়েছিল।