রংপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১২ ফেব্রুয়ারি) রংপুর জেলার বিভিন্ন আসনে জোটগত আসন সমঝোতার কারণে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের কাছে তারা এই সিদ্ধান্ত জানান।
প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন- রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি কর্পোরেশন) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মমিনুর রহমান, এনসিপির আল মামুন এবং গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নুর আলম সিদ্দিক।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হুসাইন এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের মমিনুল ইসলাম এবং রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
সূত্রে জানা যায়, এই প্রত্যাহারগুলো মূলত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের আসন সমঝোতার ফলে। রংপুর জেলায় এই সমঝোতায় ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা সরে দাঁড়িয়ে জোটের প্রধান প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলের সময় মোট ৫৬ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়, এবং এখন প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা কমেছে। আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবেন।
এই ঘটনা রংপুরের নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত জোটের প্রার্থীদের জন্য। জোটের বাইরে অন্যান্য প্রার্থীরা এখনো মাঠে রয়েছেন, যা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করতে পারে।