ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় কাজী নাজমুল হোসেন তাপসকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জেলা বিএনপির কাছে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কাজী নাজমুল হোসেন তাপসকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক পদসহ সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত এই নেতার সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, নাজমুল হোসেনের বহিষ্কারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় চিঠির অনুলিপি এখনো আমরা হাতে পাইনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াই স্বাভাবিক।
এদিকে নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের একমাত্র বৈধ প্রার্থী হলেন বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান। নবীনগর উপজেলার সব নেতাকর্মীকে আমরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস বলেন, ‘আমি এখনো বহিষ্কারের চিঠির হার্ডকপি হাতে পাইনি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। আমি মাঠের রাজনীতির মানুষ, গ্রামের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ আমাকে প্রার্থী হিসেবে চায়, সে কারণেই আমি মাঠে আছি। বহিষ্কার নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই।’
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘটনায় সারা দেশেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে এই বহিষ্কারের ঘটনায় নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।