Sunday 25 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসকের ব্যাখ্যা

লোকাল করেসপন্ডেন্ট
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩১ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪১

কারাফটকে সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: সারাবাংলা

বেনাপোল: বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে কারাফটকে তার স্ত্রী ও ৯ মাসের সন্তানের মরদেহ দেখানোর ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামে এক আসামিকে। বন্দির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এতে বলা হয়, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দির স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে, যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

এ ছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, এ ধরনের তথ্যও মিথ্যা; কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি যে কারাগারে বন্দি থাকে সেই জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করতে হয়। সাদ্দাম বন্দি আছেন যশোর জেলা কারাগারে। কিন্তু তার বাড়ি বাগেরহাটে। প্রথমে তার পরিবার বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করে। পরে সেখান থেকে জানানো হয় যে, যশোরে আবেদন করতে হবে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে সাদ্দামের পরিবার আর আবেদন করেনি।

এদিকে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের সামনে পৌঁছালে সাদ্দামের পরিবারের ছয় জন নিকট আত্মীয়কে কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় সাদ্দাম স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

এর আগে, শুক্রবার দুপুরের পর বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে মেঝেতে পড়ে ছিল তার নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিমের নিথর দেহ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী। পুলিশ জানায়, স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং শিশুটিকে মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত স্বর্ণালীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর