পিরোজপুর: নাজিরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ইসরাতুন্নেছা এশার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও কৃষি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে এশার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষক, কৃষি অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং জেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের কথা শোনা গেলেও তিনি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বিষয়গুলো দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থেকে গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরপুর উপজেলায় কর্মরত হলেও তিনি পিরোজপুর জেলা শহরে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত সরকারি গাড়ি ও সরকারি তেল ব্যবহার করে জেলা শহর থেকে নাজিরপুরে যাতায়াত করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সরকারি যানবাহন ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘন করে বরাদ্দকৃত গাড়িটি তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও সেবাপ্রার্থীরা জানান, নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে প্রায়ই তাকে পাওয়া যায় না। অফিসে খোঁজ নিলে কখনো প্রশিক্ষণ, কখনো মাঠ পরিদর্শনের কথা বলা হলেও এসব তথ্য কতটা সত্য তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
রোববার দুপুরে নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ওই সময় তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না, কিন্তু তার রুমে লাইট ফ্যান চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসের হেডক্লার্ক শচীন বেপারী বলেন, ‘ম্যাডাম জেলা অফিসে আছেন।’
তবে এ বিষয়ে সাংবাদিককে ফোনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘আমি আজ ছুটিতে আছি।’
অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার ছুটি অনুমোদনকারী পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আজকের তারিখে (২৫ জানুয়ারি) নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কোনো অফিসিয়াল ছুটি অনুমোদনের তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমি তার কোনো ছুটি মঞ্জুর করিনি।’
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, নাজিরপুর উপজেলায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নামে-বেনামে বরাদ্দ দেখানো এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার করা হয়েছে।
জেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার স্বামী জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় (এনএসআই) কর্মরত থাকায় তিনি প্রভাব খাটান-এমন অভিযোগ পুরোনো। এ কারণে অনেক সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্ব পায় না। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকেন।
তবে এসব অভিযোগ এখনও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা লিখিত আকারে প্রকাশ্যে আসেনি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাতুন্নেছা এশার বিস্তারিত বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, বর্তমানে নির্বাচনসংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত রয়েছেন এবং নির্বাচনের পর এ বিষয়ে কথা বলবেন।
উল্লেখ্য, তিনি বিসিএস ৩৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাজিরপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।