Tuesday 27 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভান্ডারিয়ায় নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২১

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী

পিরোজপুর: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর শিশু রাইয়ান মল্লিকের (০৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় শিশুটির চাচাতো ভাইসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালি গ্রামে বাড়ির পাশের একটি গোয়াল ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় সে। এর পরের দিন রোববার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

নিহত রাইয়ান মল্লিক ওই গ্রামের রাসেল ও তন্বী দম্পতির একমাত্র সন্তান।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— মো. মিজান মল্লিকের ছেলে মোহাম্মদ রিয়াদ মল্লিক (১৯), আব্দুল হক মল্লিকের ছেলে মো. মিজান মল্লিক (৪২), মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬) এবং মো. মিজান মল্লিকের স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৫)।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের একটি মসজিদের বারান্দা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটটির হাতের লেখার সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে শিশুটির চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রিয়াদ মল্লিককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চিরকুটটি তারই লেখা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, আসামি রিয়াদ মল্লিকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের বসতঘরের সামনের গোয়াল ঘরের ভেতর খড়কুটার মধ্যে লাশটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহত শিশুটির দাদা আব্দুল হক মল্লিক বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে পিরোজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের সব ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুব দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়টি জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।’

পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফাতার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর