বেনাপোল: একটি অশুভ চক্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অনেকে বলে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মানুষ যেমন খুশি, তেমন পোশাক পরত পারবে না। কথাটা সঠিক না, যে কেউ শালীনতার সাথে যেকোনো পোশাক পরিচ্ছেদ পরতে পারবেন। কাউকে জোর করে পোশাক পরানো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাজ নয়।
মঙ্গলবার(২৭শে জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগা ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের মত আবারও কিছু অশুভ চক্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ নেতিবাচক ও মিথ্যা তথ্য প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এসব মিথ্যাচার করে কোন লাভ হবে না। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। ভুলভাল বুঝিয়ে মানুষকে বিপথগামী করা যাবে না।
পতিত সরকারের উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর বলেন, বিগত সরকারের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা যে পথে গেছে তাদেরকেও সেই পথে যেতে হবে। মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে। নিজের অধিকার আদায় করতে শিখেছে। প্রয়োজনে মানুষ আবারও রাস্তায় নামবে। তবে কোনো অশুভ শক্তির হাতে রাষ্ট্রকে তুলে দেবে না। ১২ ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করবেন। ১২ ই ফেব্রুয়ারিতে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যালটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি আমাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমে জয়ী করেন। আমরা এই রাষ্ট্রকে আদর্শ রাষ্ট্রে রূপান্তর করব। এখানে কোন ধর্ম বর্ণের বিভেদ থাকবে না। মানুষে মানুষে বৈষম্য থাকবে না। যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু আমরা দেওয়ার চেষ্টা করব।
জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে দাঁড়িপাল্লায় এবং হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিতে হবে উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, যারা রাষ্ট্রের পরিবর্তন চান, যারা রাষ্ট্রের সংস্কার চান, যারা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চান, তারা হ্যাঁ- এর পক্ষে ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিবেন।
‘না’ ভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা পরিবর্তন চান না, যারা স্বৈরাচার শাসক হতে চান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজের রাজ্য তৈরি করে আধিপত্য বিস্তার করতে চান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান না, তারা না-এর পক্ষে ভোট দিবেন। কারণ তাদের জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কোন শ্রদ্ধা ভালোবাসা-দায়বদ্ধতা নেই। তারা শেখ হাসিনার মত স্বৈরাচার সরকারকে আবার আনতে উৎসাহী।
এর আগে যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুল বলেন, যশোর ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা। খুলনা বিভাগের আগে যশোর জেলার অবস্থান। অথচ দীর্ঘদিনের মানুষের দাবির পরও যশোর কে সিটি কর্পোরেশন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ জেলায় কৃষি বিপ্লব ঘটেছে, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আজও পর্যন্ত জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে আমিরের কাছে এই যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, যশোর ১ আসনের মাওলানা আজিজুর রহমান, দুই আসনের ডাক্তার মোসলে উদ্দিন ফরিদ, ৩ আসনের আব্দুল কাদের, ৪ আসনের অধ্যাপক গোলাম রসুল, ৫ আসনের গাজী এনামুল হক, ৬ আসনের মুক্তার আলী সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সহ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।