রাজবাড়ী: রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজবাড়ীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হবে।
বুধবার (২৮শে জানুয়ারি) বিকালে চন্দনী রাজিয়া বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদ খৈয়ম আরও বলেছেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
নির্বাচনি জনসভায় সবাইকে উদ্দেশ্যে করে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা নদী অনেক ছোট হয়ে গেছে, এই পদ্মা নদী কী এতটুকু ছিল? এই কূল থেকে ওই কূল দেখা যেত না। এখন শীতকাল, পদ্মাতে পানি নেই। এর কারণ হচ্ছে ভারতে দেওয়া ফারাক্কা বাঁধ। বর্ষার শেষে তারা সেই বাঁধ আটকে দেয়, সমস্ত পানি তারা আটকে রাখে। নদীতে পানি না থাকলে ফসল উৎপাদন হয় না। এখন ডিপ টিউবয়েল দিয়ে পানি তুলতে হয়। প্রত্যেক বছর এই পানি লেয়ার নিচে নেমে যাচ্ছে। এমন নামতে থাকলে একসময় আমরা পানি পাবো না।
নদী শুাকয়ে গেলে কি কি ক্ষতি হয় তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীতে পানি না থাকলে আর্সেনিক হয়, আর্সেনিক থেকে ঘা সৃষ্টি হয়। পানির অভাবে গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। আগামী পাঁচ বছরে সমুদ্রের পানি চলে আসবে রাজবাড়ীতে। এই পানি চলে আসলে আমাদের জন্য সর্বনাশ। এজন্য আমরা ভেবেছি একটা বাঁধ দিতে হবে। আমরা রাজবাড়ীতেই বাঁধ দেবো। বর্ষার সময় ইন্ডিয়ার পানি ছাড়তে হবে, না হলে তারা ডুবে মরবে। তখন আমরা পানি আটকে রাখবো। আমরা অসময়ে সেই পানি ব্যবহার করব। এটি হলে আমাদের এলাকায় ফসল বাড়বে, মাছ চাষ বাড়বে। এই বাঁধ হলে এইখান দিয়ে রেললাইন হবে, রাস্তা হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, অনেক কিছু হবে।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একটি কমিটি করেছি, সেই কমিটির নাম পদ্মা ব্যারেজ ও ২য় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি। এই কমিটির সভাপতি আমি। এই কমিটিতে অনেক বড় বড় মানুষ আছে, রাষ্ট্রদূতেরা রয়েছে, ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে, অধ্যাপক, গবেষকসহ অনেক বড় বড় জনেরা রয়েছে। আমি আমার নেতা তারেক রহমানকে বললাম, পদ্মা ব্যারেজের না করলে বাংলাদেশ শুকিয়ে যাবে। শুধু রাজবাড়ীর সমস্যা নয়, সারা বাংলাদেশের সমস্যা হবে। আমার নেতা বলেছে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজবাড়ীতে পদ্মা ব্যারেজ হবে। এজন্য নির্বাচনি ইশতেহারে পদ্মা ব্যারেজ অন্তর্ভুক্ত আছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নেই, বিশ্ববিদ্যালয় হবে, মেডিকেল কলেজ হবে। আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব মানুষ একসাথে বসবাস করবো।
খৈয়ম আরও বলেন, অন্য জেলার মানুষ এখনো আমাদের রাজবাড়ীকে চিনে না, ফরিদপুর রাজবাড়ী বললে চিনে। আর চিনবে কীভাবে, রাজবাড়ীকে যে চিনবে তেমন চেনার মতো কিছুই নেই। আমাদের এলাকার মানুষ দরিদ্র, এটি দরিদ্র এলাকা। এজন্য আমরা ভেবেছি কী করলে এই এলাকা উন্নত হবে। অনেকগুলো বিষয় আমাদের সামনে এসেছে।
ভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে এখন নির্বাচিত সরকার নেই। বহুদিন আপনারা ভোট দিতে পারেন নাই, আপনার পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে পারেন নাই, পছন্দের মানুষের নির্বাচিত করতে পারেন নাই। ২০০৮,২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সাল প্রত্যেকটি বছর আপনারা ভোট দিতে পারেন নাই। প্রত্যেকটি বছর আমি ক্যান্ডিডেট ছিলাম। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রত্যেকবার আমাকে নমিনেশন দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচন করতে পারি নাই, ঘর থেকে বের হতে পারি নাই। এই চন্দনীতে একদিন আমি আসবো, সেদিন শুনতে পেলাম আওয়ামী লীগের পোলাপান লাঠি-সোঁটা নিয়ে, অস্ত্র নিয়ে অপেক্ষা করছে। আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারি নাই। তখন পুলিশ, বিডিআর, র্যাব, ডিবি, আওয়ামী লীগের গুন্ডা সবাই মিলে বের হতে দেই নাই আমাকে। এবার আপনারা নির্ভয়ে আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।
চন্দনী ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম দুলাল,রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কে. এ. সবুর শাহীন, বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক, সাবেক চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, কৃষক দলের সদস্য সচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, খানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাহার হোসেন তকদির, মিজানপুন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমানসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। নির্বাচনি জনসভা সঞ্চালনা করে চন্দনী ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. নাজিম উদ্দীন মোল্লা। এসময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।