রংপুর: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের সম্মানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে জনসভা করলেও সেখানে তিনি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ প্রচার করেননি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিশাল জনসভায় এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেনি।
সূত্রমতে, তারেক রহমানের এই আহ্বান জুলাই সনদের সঙ্গে যুক্ত, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের (যা কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উদ্ভূত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটায়) ফলস্বরূপ গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার অ্যাজেন্ডার অংশ। এই সনদে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে, যা বিএনপির ২০২৩ সালে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে মিলে যায়। বিএনপির ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধকরণ (দুই মেয়াদের বেশি নয়), নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার এবং দুর্নীতি দমনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা সংবিধান সংস্কার, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দেয়।
রংপুরের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন স্বৈরাচার এই দেশের মানুষের কাঁধের ওপর চেপে বসেছিল, সেই সময় বিএনপি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল দেশের মানুষের সামনে—৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করে সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়েছে এবং বিএনপি সেখানে তাদের প্রস্তাব পেশ করেছে। আমরা লুকোছাপা করিনি। আমরা জনগণের সামনে প্রকাশ্যে বলেছি, কোনোটিতে আমরা সম্মতি দিয়েছি, কোনোটিতে আমাদের অসম্মতি আছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়ে তিনি শহিদদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে, চট্টগ্রামে ওয়াসিম নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে। হাজারো মানুষ যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তাদের জীবন উৎসর্গকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। সে জন্যই আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব যে ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে, একই সঙ্গে আপনাকে যে দ্বিতীয় ব্যালট পেপারটি দেবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’, সেখানে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দয়া করে আপনারা রায় দেবেন।
তবে ২২ জানুয়ারি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম জনসভায় গণভোটের ‘হ্যাঁ’ প্রসঙ্গ উঠেনি। চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে অনুরূপভাবে প্রচার চালিয়েছেন, যেখানে ফোকাস ছিল দলীয় প্রতীকে ভোট এবং সাধারণ সংস্কারের ওপর, কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটের সুনির্দিষ্ট আহ্বান ছিল না।