রংপুর: রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলায় ইদ্রিস আলী নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা মজনু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি পীরগাছা উপজেলায় ঘটেছে।
ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী (৪৫) পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের জগজীবন এলাকার মৃত মজিব উদ্দিনের ছেলে। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্যসচিব আখতার হোসেনের শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থক। আখতার হোসেন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ইদ্রিস আলীর বাড়ির উঠানে কয়েকজন বিএনপি কর্মী গিয়ে তার ভোটের সিদ্ধান্ত জানতে চান। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে (বিএনপির প্রতীক) ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন এবং এলাকায় থাকতে হলে বিএনপির পক্ষে ভোট দিতে হবে বলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ইদ্রিসের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। আহত ইদ্রিসকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর ইদ্রিস আলী চারজনের নাম উল্লেখ করে পীরগাছা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্নদানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মজনু মিয়াকে (৩৮) গ্রেফতার করে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান।
ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমি শুধু আমার ভোটের অধিকার প্রয়োগের কথা বলেছি। এজন্য আমাকে মারধর করা হয়েছে। এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুরক্ষা চাই।’
পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা গ্রহণ করে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নির্বাচনি এলাকায় শান্তি রক্ষায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’