রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও সন্ধান মেলেনি রেজাউল শিকদারের। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার কাজ চালাচ্ছিল ডুবুরি দল।
নিখোঁজ ওই যুবকের নাম রেজাউল শিকদার। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়া এলাকার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল শেখ জানান, ফেরিতে জুয়াড়িদের একটি দল জুয়া খেলার টাকা নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রেজাউল ফেরির পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দেন। তাকে ধরতে গিয়ে ওই যাত্রীও নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে ঘাটে থাকা লোকজন যাত্রীকে টেনে তুলতে পারলেও রেজাউলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি নদীতে তলিয়ে যান।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ থেকে এসে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করে আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অভিযান চললেও তাকে না পেয়ে প্রথম দিনের অভিযান শেষ হয়। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান।
এদিকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের পরিবারের দাবি, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ফেরিঘাট থেকে পরিকল্পিতভাবে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে উদ্ধার করা হলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ নিখোঁজ রেজাউলের সন্ধান চান তারা।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা বলেন, ওই দিন জুয়াড়িরা কৌশলে এক যাত্রীর টাকা হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে রেজাউল শিকদার নদীতে লাফ দেন। তাকে ধরতে গিয়ে ওই যাত্রীও নদীতে ঝাঁপ দেন। যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও রেজাউলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার জয়নুল আবেদিন জানান, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধ্যানে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার কাজ চলছে। সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।