খুলনা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বটিয়াঘাটা বাজার চত্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখা আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধাবী ছাত্ররাই পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে-অপপ্রচার আর টিকবে না। তিনি বলেন, তরুণদের এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে।
১১ দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইসলামী চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনা- এই তিনটি চেতনাকে একত্র করে আমরা একটি মানবিক, ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ছিল না, কিন্তু চাঁদাবাজি-দখল ও মানুষ হত্যা থেমে যায়নি। বাজারে-ঘাটে-হাটে যেসব চাঁদাবাজি হয়েছে- মানুষ জানে কারা করেছে। সংখ্যালঘু ইস্যুতে অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “হিন্দুদের ভয় দেখানো হচ্ছে- দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে শাখা-সিঁদুর থাকবে না, বোরকা পরতে হবে। এসব নির্লজ্জ মিথ্যা।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, হিন্দু হয়েও কৃষ্ণনন্দী যদি এমপি হন, তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। এজন্য তিনি খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোট চাইতে গিয়ে আমাদের মায়েদের বোরকা টেনে খুলে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি পেটে লাথি মারা হচ্ছে। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মায়ের কাপড় খুলতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে পুরো জাতিকেই বিবস্ত্র করতে চাইবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে তাদের কোন কার্ডের প্রলোভনে আর জনগণ পড়বে না, বরং এবার তাদের সবাইকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। জনগণ এখন রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়। মানুষ লাঙল, নৌকা ও ধানের শীষে ভোট দিয়েছে এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশ বদলাতে চায়। তার মতে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার ও দমন-পীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াত আমির মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুফতি মাওলানা আব্দুল কাউয়ুম জমাদ্দার, খেলাফত মজলিশের জেলা সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুফতি ফিরোজুল ইসলাম, হরিণটানা থানা আমির মো. আব্দুল গফুরসহ উপজেলার জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিল।