সিলেট: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে ইই্উ’র সম্পর্ক পুরনো ও দীর্ঘদিনের।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হবে এবং দেশটি একটি গতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হবে
প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে ব্রিফিংকালে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রেস অফিসার এভারহার্ড লিউই।
সভা সঞ্চালনা করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইভারস আইজাবস বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা জরুরি।
তিনি জানান, স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং হস্তক্ষেপহীনতা – এই তিনটি কারিগরি মূল্যায়ণ নীতির ওপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, তারা নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে, কিন্তু ফলাফল প্রত্যয়ন করবে না। এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের জনগণের। বাংলাদেশ একটি অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম বলে ইইউ মনে করে।
তিনি আরও জানান, ভোটের ২ দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ ইওএম ঢাকায় একটি প্রাথমিক বিবৃতি প্রকাশ করবে এবং সংবাদ সম্মেলন করবে। ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ তুলে ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত হবে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
মিশন প্রধান বলেন, ‘মিশনটির পূর্ণাঙ্গ জনবলে ইইউ’র সব সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত ১১ জন বিশ্লেষকের একটি মূল দল, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক, ভোটের ঠিক আগের দিন নিযুক্ত ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলও মিশনকে শক্তিশালী করবে।’
ইইউ ইওএম পর্যবেক্ষকরা মিশনটি কঠোর আচরণবিধি মেনে এবং ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করে বলে জানান আইজাবস।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের কাজ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে করবে।
আইজাবস বলেন, ইইউ ইওএম নারী, যুবক এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীসহ নাগরিক অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিবেশও মূল্যায়ন করবে।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিটগুলো ভোটাররা কতটা তথ্যসমৃদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করবে বলে জানান তিনি।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আইজাবসের নেতৃত্বে মিশনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকের আসার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় নিযুক্ত হবেন।
এর আগে, বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) নিযুক্ত করার আমন্ত্রণ জানায়। ২০০৮ সালের পর এটিই দেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন হিসেবে চিহ্নিত হবে।