খুলনা: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, একটি পক্ষ বুলেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর আমরা ব্যালটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই বুলেটের রাজনীতিকে আমরা ব্যালটের রাজনীতির মাধ্যমে পরাজিত করব।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনা-৫ আসনের (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) এলাকার ১১ দলীয় নির্বাচনি এক্যের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারে সমর্থনে ফুলতলায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কোনো সহজ অর্জন নয় উল্লেখ করে হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচন পেতে হাজারো মানুষ শহিদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন অর্জনের জন্য আমাদের মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। আয়নাঘর ছিল শুধু একটি স্থাপনা নয়—সারা বাংলাদেশই নিপীড়িত মানুষের জন্য উন্মুক্ত কারাগার।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আগে বায়তুল মুকাররমের সামনে লগি-বৈঠার রাজনীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদির শাহাদাত পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তাক্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন এসেছে। এই নির্বাচন শহিদদের রক্তে লেখা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে প্রশাসনের উদ্দেশে হাসানাত বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে করা হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেওয়া হয়েছে, আমিরামি নির্বাচন পরিচালনা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ করেন তিনি।
তবে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড উপর মহলের নির্দেশে করা হয়েছিল বলেই তারা বিশ্বাস করতে চান।
পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন তরুণ প্রজন্ম ও শহিদদের রক্তে অর্জিত। কোনো পুলিশ সদস্য যদি অবৈধ টাকার মুখোমুখি হন, তাহলে সন্তান, বাবা-মা ও দেশের মানুষের কথা মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আবার ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণের বিদ্রোহ সামলানো যাবে না।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রশাসনকে জনতার কাতারে নেমে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরবে। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি ও তদবিরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন হাসানাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক সত্য তুলে ধরতে চাইলেও মালিকানার কারণে তা পারেন না। তার অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণ জেগে উঠলে কোনো মিডিয়ার প্রয়োজন হয় না জনগণই তখন মিডিয়া হয়ে ওঠে।
মিডিয়া মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট দলের প্রচারণা চালালে সেই গণমাধ্যম আর গণমাধ্যম থাকে না, দালালে পরিণত হয়। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানান।
ডুমুরিয়া ও ফুলতলা এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি পক্ষ কালো টাকা ও টাকার বস্তা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে। ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ভোটের আগে একদিন টাকা নিয়ে পাঁচ বছর গোলাম থাকবেন, নাকি বিনা পয়সায় ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছর সেবা নেবেন? ভোট বিক্রি করলে পাঁচ বছর জনগণকে গোলামি করতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ভোটকে পবিত্র আমানত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভোটাধিকার অর্জনে শত সহস্র মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্তের দোহাই দিয়ে তিনি ভোট কেনাবেচা না করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরতন্ত্রের শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। যারা গোপনে সেই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের ভূমিকা ইতিহাসে লেখা থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফুলতলা-ডুমুরিয়া আসনের প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই প্রার্থী দেশের যেকোনো আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন এবং এমপি থাকা অবস্থায় ব্যয় করা প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও চাঁদাবাজির কারণে দলের ভেতরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের পক্ষে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।