রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে লঘু শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৯তম সিন্ডিকেট সভা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৯তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেনকে দুই বছরের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলামকে নারী শিক্ষার্থীদের রিসার্চ সুপারভিশন থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভার এ সিদ্ধান্তকে ‘মধুর শাস্তি’ ও ‘পদোন্নতির মতো’ বলে সমালোচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা, যারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে শুধুমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা তার অন্যান্য দায়িত্বকে প্রভাবিত করবে না। অন্যদিকে, শাকিবুল ইসলামের ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্বাবধান থেকে বিরত রাখা হয়েছে, কিন্তু তার শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন, কারণ এটি অভিযুক্তদের ভবিষ্যত ঘটনা থেকে পুরোপুরি বিরত রাখতে পারবে না।
শিক্ষার্থী মেনহাজুল আবেদিন সোহাগ বলেন, ‘এটি মধুর শাস্তি মনে হচ্ছে।’ আরাফাত হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নামমাত্র বিচার। এমন শাস্তি দিয়ে চরিত্রহীন শিক্ষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।’
অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে ৩১ পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়, যাতে তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি তখন সহকারী প্রক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সময়ে শাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে, যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। অভিযোগকারী নারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ও ছাত্র-পরামর্শ দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এই ঘটনাগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে, কিন্তু সিদ্ধান্ত লঘু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
বেরোবিতে যৌন হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের নভেম্বরে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, এমন লঘু শাস্তি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনাকে উৎসাহিত করবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কেউই এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, তদন্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।