Monday 09 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চাষের জমিতে পুকুর খননে বিপাকে কৃষক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৪ | আপডেট: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৬

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে নির্বিচারে চলছে কৃষিজমি খনন।

শরীয়তপুর: জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কৃষিজমি কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর পেছনে দায়ী বছরের পর বছর কৃষিজমিতে পুকুর খনন, ভরাট ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ। এর ফলে উপজেলার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ছিল প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি। কিন্তু বছরের পর বছর নির্বিচারে কৃষিজমিতে পুকুর খনন, অবৈধ ভরাট ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে বর্তমানে সেই কৃষিজমি কমে নেমে এসেছে মাত্র ১৮.৪৪৯ হাজার হেক্টরে। উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠান বাড়ি বিল এলাকায় ১০টি স্পটে ৩০ একর কৃষিজমিতে অনুমতি ছাড়াই পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ কারণে ওই এলাকার কয়েকশত কৃষক কৃষিকাজ করতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও জানান, চরসেনসাস ইউনিয়নের বেরাচাক্কি এলাকায় ১০ একর কৃষিজমির পাশাপাশি সরকারের খাস জমি দখল করে তিনটি মাছের ঘেড় করা হচ্ছে। ছয়গাঁও ইউনিয়নের আনন্দ বাজার, ভেনপা, চাটার বাজার, পাপড়াইলসহ কয়েকটি জায়গায় প্রায় ৫০ একর কৃষিজমিতে চলছে পুকুর খননের কাজ।

জানা যায়, কৃষিজমি কমে যাওয়ায় কৃষকেরা তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে বিদেশ চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম।

এ দিকে দ্রুত অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ, নষ্ট হওয়া কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন শরীয়তপুর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এস. এম. রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিবছরই দেখি কৃষিজমিতে মাছের ঘেড় করা হচ্ছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও পুকুর খনন বন্ধ করা যাচ্ছে না। একদিকে প্রশাসন জরিমানা করছে, অন্যদিকে রাতের আঁধারে জমি খনন চলছে। তাই আমি মনে করি, মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি নজরদারি বাড়াতে হবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই এলাকায় ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।’

কৃষক রহিম মিয়া বলেন, ‘আমার ২০ শতাংশ জমিতে ইরি ধান, পাট, গম, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল হতো। এ বছর কিছুই করতে পারিনি। কারণ মাছের ঘেড় তৈরি করা মালিকগণ ব্লকের পানি আটকে রেখে পাশের জমিতে পুকুর খনন করায় আমার জমিতে সেচের পানি আসে না।’

কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একজন নিজের লাভের আশায় পুকুর খনন করছে, কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে আমাদের সবার। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখছি না। জোরপূর্বক এবং বেশি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে জমি নেওয়া হচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে ভেঁকু মালিক খোকন সিকদার বলেন, ‘জোরপূর্বক নয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই কৃষক জমিগুলো আমাদের দিয়েছে।’

অনুমতি নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে, তবে এখনও অনুমতি পাইনি। প্রশাসন আমাকে মৌখিক অনুমতি দিয়েছে।’

অপর দুই অভিযুক্ত জয়নাল ও মমিন দিদার বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুল হক জানান, কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন অনুযায়ী তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের কোনো সুযোগ নেই। অবৈধভাবে যারা পুকুর খনন করছে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চাষের জমিতে পুকুর খননে বিপাকে কৃষক
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর