Tuesday 10 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যশোর-৫ আসনে মুখোমুখি বিএনপির সভাপতি-সেক্রেটারি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২১ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৬

বক্তব্য দিচ্ছেন আসাদুজ্জামান মিন্টু

যশোর: যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রশিদ আহমাদকে পরাজিত করতে জেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক মাঠে নেমেছেন। এতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর বিজয়ের পথ সুগম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু। তিনি সম্প্রতি উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের এক যৌথ সমন্বয় সভায় এসব অভিযোগ করেন। তার এক মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে তোলপাড় হয়েছে।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। গত ডিসেম্বরের শেষদিকে তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ আহমাদকে। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শহিদ মো. ইকবাল হোসেন। তার পক্ষে কাজ করায় বিএনপির পৌর ও চারটি ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বহিষ্কার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। তার পরেও বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা এসব নেতাকর্মীদের বহিষ্কার না করে কমিটি বিলুপ্ত করায় ক্ষুব্ধ ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তিনি বলছেন, ‘কালকে (৭ ফেব্রুয়ারি) আমি যশোরে সভাপতি-সেক্রেটারিকে বলে আসছি, সেখানে অমিত সাহেব ছিলেন। আমি এই কথাটাই বলে আসছি। আপনারা কিছু করতে না পারলে, আমরা বুঝব আপনারা দুই দিকে খেলছেন। কাজেই আমি প্রার্থীকে বলব, আপনি প্রত্যাহার করে ঘরে ফিরে যান। স্বতন্ত্র সে নির্বাচন করুক। যা হয় হোক, তাতে আমার যায় আসে না, আমি তো উনাদের (জেলা বিএনপি) টাকায় চাল ডাল কিনে খাই না। বরং আমরা উনাদেরকে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা দিয়ে হেল্প করি। উনারা ত্রাণ দিতে যাবেন দুই লাখ টাকা দিতে হবে, উনার ঘর বানায়ে দিবেন ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, শহিদ ইকবাল আর মিন্টু টাকা ম্যানেজ করে নিয়ে আসো।

ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, এই তো হয়েছে বিগত দিনে। কাজেই ওদের ভয় করি না। জেলা বিএনপি আমাকে কোন ফল্ট করলেই না বহিস্কার করবে ? আমি তো কোন ফল্ট করবো না……। মনিরামপুরের বিষয়টা নিয়ে জেলা বিএনপি একটা খেলায় নেমেছে, আমি স্পষ্টভাবে জেলা বিএনপির সভাপতি-সেক্রেটারি, সাথে আছে কিনা জানি না, তবে সভাপতি-সেক্রেটারি স্পষ্ট। তারা এই নির্বাচনটাকে নিয়ে খেলা করছে, আজকে ধানের শীষ আর কলস মার্কা দাঁড় করিয়ে দিয়ে, দাঁড়িপাল্লা পাস করিয়ে দেওয়ার মত সুযোগ তারা করে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, যারা ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করছে, তাদের বহিষ্কারের জন্য জেলা বিএনপির কাছে তালিকা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বহিষ্কারে না করে পৌর ও চারটি ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় ওইসব কমিটির যারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছিলেন তাদেরকেও তো শাস্তি দেওয়া হলো। কমিটি বিলুপ্তি আর বহিষ্কার এক জিনিস না। শুধু বিএনপি না, ছাত্রদল, যুবদলের যারা ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করছে, তাদের তালিকাও দেওয়া হয়েছে। তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। জেলা বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এজন্য আমি ওই বক্তব্য দিয়েছি।’

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু বলেন, তার কথার (আসাদুজ্জামান মিন্টু) কোন যৌক্তিতা নেই। পার্টি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তার পক্ষে আমরা একমত। উনি যাদের নাম দিবেন, তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে। উনি যদি বলেন, সবাইকে বহিষ্কার করতে হবে, তাহলে সবাইকে বহিষ্কারেৎ করে দেওয়া হবে। পার্টির সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করলে উনি আমার সঙ্গে আলোচনা করে বহিষ্কার করবেন। এখানে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর